দেশের চলমান সংকটময় পরিস্থিতিতে কারাবন্দি ৫৬ জন মোবাইল ব্যবসায়ীকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ। একইসঙ্গে নিরীহ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানান মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ পিয়াস।
মানববন্ধনে তিনি বলেন, এনইআইআর বাস্তবায়নের নামে নেওয়া সিদ্ধান্তের ফলে দেশের প্রায় ২০ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি মোবাইল ব্যবসায়ী এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকা আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সাধারণ সম্পাদক বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে গিয়ে বহু ব্যবসায়ীকে হয়রানিমূলক মামলায় আটক করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। অবিলম্বে ৫৬ জন কারাবন্দি মোবাইল ব্যবসায়ীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।
সংগঠনটির অন্যান্য নেতারা বলেন, গত ৩০ দিনের বেশি সময় ধরে ধারাবাহিক আন্দোলন ও দোকান বন্ধ কর্মসূচির কারণে মোবাইল খাতে ভয়াবহ অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ২১ দিন শোরুম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় হাজার হাজার কর্মচারী বেতন পাননি, অনেক ব্যবসায়ী দোকানভাড়া ও ব্যাংক ঋণের কিস্তি দিতে পারেননি এবং শিক্ষার্থীদের বেতন পরিশোধ করাও সম্ভব হয়নি।
মোবাইল ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, টেকনিশিয়ান, গ্যাজেট ব্যবসায়ী ও ভোক্তাসহ পুরো ইকোসিস্টেমেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
তারা বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এর অংশ হিসেবে গত ১৮ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তিনি ব্যবসায়ীদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং ভবিষ্যতে জনগণ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আশ্বাস দেন।
সামগ্রিক পরিস্থিতি ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বিবেচনায় মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ তাদের চলমান দোকান বন্ধ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। আগামী ২২ জানুয়ারি সারা দেশে সব মোবাইল শোরুম পুনরায় খোলা থাকবে।
তারা অভিযোগ করে বলেন, নির্দিষ্ট একটি সিন্ডিকেটের পণ্য বিক্রি বন্ধ রাখার কর্মসূচি চলমান থাকবে। ওই সিন্ডিকেট এনইআইআরের নামে একচেটিয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।
মোবাইল ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা কোনো সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলায় বিশ্বাস করি না। আইন মেনে ব্যবসা করতে, কর দিতে এবং দেশের অর্থনীতিতে ন্যায্য ভূমিকা রাখতে চাই। একইসঙ্গে আগামীর নির্বাচিত সরকারের কাছে ব্যবসাবান্ধব ও জনবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের প্রত্যাশা করছি।
মানববন্ধন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান সোহেলসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কয়েক শতাধিক মোবাইল ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।