ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সড়কে গণপরিবহন চলাচল সীমিত রয়েছে। এই সুযোগে শহরজুড়ে রাজত্ব করছে রিকশা। ভোটারদের যাতায়াতে রিকশাই এখন প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর এই বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে রিকশা চালকরা আদায় করছেন দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া।
সকালে মিরপুর ৬০ ফিট এলাকা থেকে ধানমন্ডি সরকারি বয়েজ হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন সরকারি চাকরিজীবী মো. আহসান উদ্দীন। গন্তব্যে পৌঁছে ভাড়া নিয়ে চালকের সঙ্গে তার বেশ কিছুক্ষণ বাগবিতণ্ডা হয়।
আহসান উদ্দীন জানান, স্বাভাবিক সময়ে যে ভাড়া ৮০ টাকা, চালক দাবি করেছেন ১৫০ টাকা। শেষ পর্যন্ত ১২০ টাকায় বিষয়টি মিটমাট হয়।
একই চিত্র দেখা গেছে ধানমন্ডি এলাকায়। ভোট দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার জন্য রিকশা খুঁজছিলেন জাকির হোসেন। চালক ভাড়া দাবি করেন ২০০ টাকা। নিরুপায় হয়ে বাড়তি ভাড়াতেই তাকে গন্তব্যে রওনা হতে হয়।
সড়কে রিকশার চাহিদা তুঙ্গে থাকায় চালকদের মধ্যেও ব্যস্ততা দেখা গেছে। গ্রীন রোডের রিকশাচালক বাবুল মিয়া বলেন, “আজ ভোরে থেকেই ভোটারদের চাপ অনেক। গণপরিবহন কম থাকায় সবাই রিকশা খুঁজছেন। ট্রিপ বেশি মারতে হচ্ছে, তাই পরিশ্রমও বেশি।”
সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর, আগারগাঁও, ধানমন্ডি, কারওয়ান বাজার ও শাহবাগ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান সড়কগুলোতে বাস বা ব্যক্তিগত গাড়ি নেই বললেই চলে। তবে রিকশার দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক ভোটার অভিযোগ করেছেন, ভোট দেওয়ার উৎসব থাকলেও যাতায়াতের ক্ষেত্রে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
যানবাহন চলাচল সীমিত থাকলেও ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন। যাতায়াতে কিছুটা ভোগান্তি থাকলেও ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে আসছেন এবং এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।