একুশের ছুটিতে দর্শনার্থীদের ভিড়ে প্রাণচঞ্চল জিয়া উদ্যান

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিনে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে ঢল নেমেছে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের। বিনোদনপ্রেমীদের পদচারণায় উদ্যানের সবুজ চত্বর আজ এক প্রাণবন্ত উৎসবে পরিণত হয়েছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদের নিয়ে উদ্যানে আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়তে থাকে। মূলত শহরের যান্ত্রিকতা থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে এবং ছুটির দিনটি উদযাপনের জন্য অনেকেই এই উন্মুক্ত উদ্যানকে বেছে নিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ প্রিয়জনদের নিয়ে হাঁটাহাঁটি করছেন, কেউ ঘাসের ওপর বসে আড্ডা দিচ্ছেন, আবার কেউ সপরিবারে মেতে উঠেছেন ঘরোয়া পিকনিকে। শিশুদের দৌড়ঝাঁপ আর তরুণদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা মুখরিত।

নাখালপাড়া থেকে সপরিবারে আসা সাইফুল আলম জানান, সাশ্রয়ী বিনোদনের জন্য এই উদ্যানটিই তাদের প্রথম পছন্দ। তিনি বলেন, ‘শহরে ঘোরার মতো জায়গা খুব কম। অন্যান্য পার্কে প্রবেশ ফি ও রাইডের খরচ অনেক বেশি। তাই খোলামেলা পরিবেশে বাচ্চাদের নিয়ে সময় কাটাতে এখানে চলে এলাম।’

তার সাত বছরের মেয়ে রাইসাকে নিয়ে লেকের পানিতে পা ভিজিয়ে সময় কাটাতে দেখা যায় পরিবারের অন্য সদস্যদেরও।

উদ্যানের লেক এবং নান্দনিক ব্রিজগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই মোবাইল ফোনে সেলফি তুলে বা ছবি তুলে এই বিশেষ মুহূর্তটি স্মৃতিবন্দী করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রাফা রহমান বলেন, ‘শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানিয়ে বন্ধুদের নিয়ে এখানে এসেছি। খোলা আকাশের নিচে একটু নিরিবিলি সময় কাটাতে বেশ ভালো লাগছে।’

ব্যস্ত নাগরিক জীবনে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে আসা মানুষের ভিড়ে জিয়া উদ্যান আজ যেন নতুন রূপ পেয়েছে। শহিদদের স্মরণের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে কাটানো এই আনন্দঘন সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে এক নতুন প্রাণের আবহ সৃষ্টি করেছে।