রাজধানীর মোহাম্মদপুরে তারাবির নামাজের পর মো. ইব্রাহীম নামে এক তরুণকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। আহত ইব্রাহীমের বন্ধু ও স্বজনদের দাবি, তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই এলাকার অন্যতম সমন্বয়ক এবং জুলাই হত্যা মামলার একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। বর্তমানে তিনি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে মোহাম্মদপুরের ময়ূর ভিলা এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার সময় ইব্রাহীমের সঙ্গেই ছিলেন স্কুল শিক্ষক আরিফ আহমেদ। তিনি জানান, তারাবির নামাজের পর তারা দুজনে ময়ূর ভিলার সামনে একটি দোকানে চা পান করছিলেন। এ সময় মুখ বাঁধা অবস্থায় চারজন যুবক এসে হঠাৎ ইব্রাহীমকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। ইব্রাহীমের মাথায় ও হাতে গুরুতর জখম হয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।
আরিফ আহমেদের দাবি, জুলাই আন্দোলনের মামলার সাক্ষী হওয়ায় ইব্রাহীম দীর্ঘদিন ধরে হুমকির মুখে ছিলেন। এমনকি কারাগার থেকে আসামিরাও তাকে হুমকি দিচ্ছিল। সেই শত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে ভিন্ন একটি তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছেন ওই এলাকায় একটি পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগ অফিস বা এর সামনের জায়গায় দোকান বসানো নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি দ্বন্দ্ব ছিল। সেই দ্বন্দ্বের সূত্র ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, কারা এই হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। ইব্রাহীমকে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে তাকে পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।