ইসলামী ব্যাংক নিয়ে চলমান সংকটের সুরাহা ও ব্যাংকটির সুরক্ষায় ৭ দফা দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। আন্দোলনকারী আমানতকারীদের অভিযোগ, তাদের দাবি উপেক্ষা করে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুনরায় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদে বসানোর পাঁয়তারা চলছে।
সোমবার (২২ জুন) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন আন্দোলনকারীরা।
মিছিলটি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে পৌঁছালে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে এবং সেখানেই তারা অবস্থান নেন। এর আগে দিলকুশার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক এক ব্রিফিংয়ে তাদের ৭টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন।
আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত ৭ দফা দাবিগুলো হলো-
১. যোগ্য, অভিজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন ও পেশাদার বোর্ড অব ডিরেক্টরস গঠন করতে হবে।
২. ২০১৭ সালে গায়ের জোরে কেড়ে নেওয়া মালিকানা ব্যাংকের প্রকৃত ও আদি মালিকদের কাছে অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে হবে।
৩. এস আলম গ্রুপসহ যারা ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট ও পাচার করেছে, তাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৪. ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বন্ধ করতে হবে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলমান উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার রোধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. বিশেষ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং এস আলমের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮(ক) ধারা সংশোধন করে চিহ্নিত লুটপাটকারী ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংকিং খাতের পরিচালনা পর্ষদে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করতে হবে।
৭. জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া বিভ্রান্তিকর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, বিতর্কিত কোনো গোষ্ঠীকে ব্যাংকের পর্ষদে ফেরানোর যেকোনো চেষ্টা তারা প্রতিহত করবেন এবং এই ৭ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন রাজপথে অব্যাহত থাকবে।