ক্যান্টনমেন্ট থানার সেই ওসিকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে

ক্যান্টনমেন্ট থানার সদ্য প্রত্যাহার করা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসানের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছেন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, অডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের নির্দেশে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে ডিবিরও একজন কর্মকর্তা রয়েছেন।

ডিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি একটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানান, ছড়িয়ে পড়া অডিওটির বিষয়ে চলমান অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে এবং যেকোনো নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্বে এ ধরনের অনুসন্ধান সম্পন্ন করতে হয়।

পুলিশের পরিদর্শক রাকিবুল হাসান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিওতে তাকে বর্তমান সরকার, প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত ও সমালোচনামূলক মন্তব্য করতে শোনা যায়। পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে অডিওর কণ্ঠস্বর ও বক্তব্য পরিদর্শক রাকিবুল হাসানের বলেই তারা নিশ্চিত হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ওই অডিও রেকর্ডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা, পুলিশের সার্বিক সক্ষমতা এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা মন্তব্য করা হয়। পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর ভেতরে বিভিন্ন পদে পদায়ন ও বদলির ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনসহ নানা অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তোলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এই অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে বুধবারই রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে ডিএমপির সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়, যেখানে আদেশের পেছনে ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করা হয়েছিল।