২৪ ঘণ্টা পরও পুরোপুরি নেভেনি চকবাজারের আগুন

রাজধানীর পুরান ঢাকায় চকবাজারের মুনসুর খান প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পেরোলেও আগুন পুরোপুরি নেভানো যায়নি। ভবনটি থেকে এখনো ধোঁয়া বের হচ্ছে। আশপাশের মার্কেট বন্ধ রাখা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সোমবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে তারা প্রথম আগুন লাগার খবর পায়। মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এখনো পুরোপুরি নেভানো সম্ভব হয়নি। তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গুদামগুলোর মালামাল সরিয়ে তাতে পানি ঢালছে তারা।

আগুন লাগা ভবনটির সামনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভবনটি মোট সাততলা। নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত ব্যাগ, কসমেটিকস, ছাতা, আতর ও চার্জারের দোকান। প্রতি তলায় ৪০ থেকে ৫০টি দোকান রয়েছে। সোমবার বিকেলে ভবনটির ষষ্ঠ তলায় প্রথম আগুন লাগে। আগুনে সেখানকার প্রায় সব গুদামের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সপ্তম তলার বেশির ভাগ গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পঞ্চম তলায়ও আগুন ছড়িয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনের ভেতরে যেতে না পারায় ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারছেন না তারা।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করে। আগুন পুরোপুরি নেভাতে এখন ছয়টি ইউনিট কাজ করছে। অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপত্তার স্বার্থে মিটফোর্ড হাসপাতালমুখী সড়কটি বন্ধ করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে মুনসুর খান প্লাজার আশপাশের আরও ১০ থেকে ১৫টি ভবনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এসব ভবনে কসমেটিকসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের অসংখ্য দোকান রয়েছে। 

ভবনের সামনে ও আশপাশের সড়কে উৎসুক মানুষ ভিড় করে আছেন। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এখনো আগুন নেভাতে কাজ করছেন। ভবনের নিচতলার দোকানিরা কেউ কেউ তাদের মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। একই সঙ্গে ওয়াসার পানিবাহী গাড়িতে করে পানি আনতেও দেখা গেছে। আগুন লাগা ভবনের ষষ্ঠ তলায় এফ এম লেদার নামে ব্যাগের গুদাম আছে খোরশেদ আলমের। তিনি বলেন, গুদামে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মালপত্র ছিল। আগুনে সব পুড়ে গেছে। কিছুই বের করতে পারেননি। এখন ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না।