বায়ুদূষণে বিশ্বের পঞ্চম অবস্থানে ঢাকা

ধুলোবালি, যানবাহনের ধোঁয়া ও ক্ষতিকর বস্তুকণার কারণে ঢাকার বায়ুর মান ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরগুলোর তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকা। শহরটির বায়ুমান সূচক (একিউআই) স্কোর ১৬৫, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের সূচকে এ চিত্র দেখা গেছে।

আইকিউএয়ারের তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর পাকিস্তানের রাজধানী লাহোর। শহরটির একিউআই স্কোর ৪৪৪, যা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। ১৯২ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে দেশটির পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা।

তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৃহত্তম শহর দুবাই। শহরটির একিউআই স্কোর ১৭৩। আর ১৬৫ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা।

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে বায়ুর মান ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে ‘মাঝারি’ বা ‘সহনীয়’ এবং ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে বায়ুর মান ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

বাংলাদেশে বায়ুমান সূচক নির্ধারণে পাঁচ ধরনের দূষণকারী উপাদান বিবেচনা করা হয়। এগুলো হলো—বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও২) ও ওজোন (ও৩)।

২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হিসেবে ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণকাজের ধুলাকে চিহ্নিত করা হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। সংস্থাটির হিসাবে, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।