ফেনী জেলার ৬ উপজেলা নিয়ে গঠিত ৩টি আসন। এ জেলায় ১৩ লাখের বেশি ভোট রয়েছে। এর অধিকাংশই নারী, তরুণ-তরুণী। এছাড়া আওয়ামী লীগেরও ভোট ব্যাংক রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ জেলায় প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে আমূল পরিবর্তন করে দিতে পারে। ২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূলত লড়াই হবে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১দলীয় জোট প্রার্থীর।
বিগত নির্বাচনে পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ফেনী জেলায় নির্বাচনী লড়াইয়ে মুখোমুখি থাকত বিএনপি-আওয়ামী লীগ। চব্বিশের ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়ে যায় আওয়ামী লীগের। ফলে এবারই প্রথম ভোট যুদ্ধ থেকে দূরে রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
বিএনপি-জামায়াতের নির্বাচনমুখী লড়াইয়ে দুই দলের লক্ষ আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক। তারা এসব ভোট টানতে প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এছাড়া ২০০৯সালের পর ভোটার হওয়া তরুণ ভোটাররা এবার প্রথম জাতীয় নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পটপরিবর্তনে তরুণরা ভূমিকা রাখায় তাদের নিয়ে দুইপক্ষ কাজ করছেন।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ভূমিধ্বস বিজয় পায়।
অন্যদিকে ভোটের মাঠে পুরুষের চেয়ে নারী ভোটার বেশি হওয়ায় তা নিয়ে হিসাব কষছেন সবাই। এ জেলায় নারী ভোটারের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ লাখ। বিএনপি এবং জামায়াত প্রতিটি কেন্দ্রে নারী ভোটারের উপস্থিতি নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘরে ঘরে প্রচারণাও চালিয়েছেন। ভোটের আগমুহুর্তে উভয় দলের প্রতিশ্রুতি চুলচেরা বিশ্লেষন করছেন ভোটাররা।
জামায়াতের জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নান বলেন, ন্যায়-ইনসাফ, বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা হলে ফেনী জেলার ৩টি আসন সমৃদ্ধহবে। ১২ ফেব্রুয়ারী মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা ও ঈগলে রায় দেবেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, ফেনী বরাবরই বিএনপির দুর্গ। ২০০৮সালের আওয়ামীলীগ যখন জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতায় বসেছিলো তখনও ফেনী জেলার ৩টি আসন বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিল। আগামী ১২ তারিখ জনগণের রায়ে এর প্রতিফলন ঘটবে।