সাতক্ষীরায় নির্বাচনী লড়াইয়ে বড় জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতার প্রাপ্ত সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেন।
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে জয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মো. ইজ্জত উল্লাহ। ১৬৮টি কেন্দ্রের ফলাফলে (পোস্টাল ভোটসহ) তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯৫ ভোট। ইজ্জত উল্লাহ ২৩ হাজার ৭৭৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এই আসনে গণভোট হ্যাঁ পড়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪০৪। না ভোট ১ লাখ ২১ হাজার ২৫৬। ৭৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ ভোট গৃহীত হয়েছে।
সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে বিজয়ী হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আব্দুল খালেক। ১৮০টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৯ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. আব্দুর রউফ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ২৮৩ ভোট। আব্দুল খালেক ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনে ধানের শীষকে পেছনে ফেলে মূল লড়াইয়ে উঠে এসেছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম। তবে শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছেন জামায়াতের রবিউল বাসার। ১৬৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৩৩ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম (ফুটবল প্রতীক) পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৩৮৯ভোট। ৭৮ হাজার ৮৪৪ ভোটের ব্যবধানে রবিউল বাসার জয়ী হয়েছেন। বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন ধানের শীষে ৫৬ হাজার ৮১৯ পান। এখানে গণভোট হ্যাঁ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯২৫, না ভোট ১ লাখ ৪ হাজার ৮৮৩। ৭০ দশমিক ৯৯ শতাংশ ভোট গৃহীত হয়েছে।
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম। ৯৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৯১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ড. মো. মনিরুজ্জামান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৬ ভোট। ২১ হাজার ৪৪৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন নজরুল ইসলাম। গণভোট হ্যাঁ ভোট ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৪১, না ভোট ৬০ হাজার ৭৭৯ ভোট। ৬৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট গ্রহণ হয়েছে।
রাত ২টার দিকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ্ আফরোজা আক্তার আনুষ্ঠানিকভাবে এই চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন।