জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে অসময়ে দেখা দিয়েছে যমুনা নদীর ভাঙন। ইতোমধ্যে ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্থাপনা, বাড়িঘর ও ফসলি জমি। এছাড়া ভাঙন হুমকিতে রয়েছে একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠান, কয়েক বিঘা কৃষি জমি ও কয়েকশত বাড়ি ঘর। স্থানীয়দের অভিযোগ টানা কয়েক মাস যাবত ভাঙন অব্যাহত থাকলেও খোঁজ রাখছে না কেউই।
উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নের এর খোলাবাড়ী এলাকার ৬৫ বছরের শুক্কুর আলী। জীবনে সাতবার নদী ভাঙনে হারিয়েছেন নিজের ঘর। পাঁচ সন্তানের কেউ সঙ্গে না থাকায় এই ঘরটাই ছিল তার শেষ আশ্রয়। কিন্তু এবার অষ্টমবারের মতো ভাঙনের মুখে। তাই রোজা মুখে নিয়েও কোনো রকম ঘর সরাচ্ছেন তিনি, আর নিঃশব্দে দোষ দিয়ে যাচ্ছেন যমুনা নদীকে।
কান্না জড়িত কাঁপা কাঁপা কন্ঠে শুক্কুর আলী বলেন, এহন মনে করেন যে আমাদের সব জমিজমা নদীর মধ্যে চলে গেছে গা। এহন আল্লাহ যদি রাখে এভাবে চলবে।
শুধু শুক্কুর আলী নয়, সম্প্রতি নদী ভাঙনে বসত বাড়ি হারিয়েছেন শতাধিক বাসিন্দা। কিছুদিন আগেও ভাঙনের মাত্রা কম থাকলেও এখন নদী ভাঙছে ভয়ঙ্কর রূপে। এতে নদী গর্ভে চলে গেছে কয়েক একর ফসলী জমি। আর বিলীন হয়েছে দেওয়ানগঞ্জ খোলাবাড়ী গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রায় ১০০ মিটার অংশ ও কয়েকটি স্থাপনা।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা শামীম বলেন, এই যমুনা নদীতে রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব বিলীন হয়ে যাইতাছে। এখানে অনেক বসত ভিটা ছিল। সব বিলীন হয়ে গেছে। রাস্তাও নদীতে চলে গেছে। যার ফলে শুধু দেওানগঞ্জ নয় গাইবান্ধা ইউনিয়নের লোক যাতায়াত করেন। এর ফলে আমাদের যাতায়াতের বেশ কষ্ট হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, অসময়ের এই ভাঙন দ্রুত সময়ের মধ্যে না থামালে বিলীন হতে পারে চারটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, বাড়ি ঘর ও ফসলি জমি। আর দীর্ঘদিন যাবৎ ভাঙন অব্যাহত থাকলেও কেউ খোঁজ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ তাদের। আর পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে ভাঙন রোধে স্বল্প পরিসরে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে।
স্থানীয় কৃষক লুৎফর মিয়া বলেন, আমাদের দুঃখের জীবন। আমাদের এদিকে সম্পদ নষ্ট হয়ে গেছে। ভুট্টা, মরিচ সব ফসল চলে গেছে।
গৃহিণী নাজমা খাতুন বলেন, আমাদের এলাকার মহিলা গো বাচ্চা হওনের সময় হাসপাতালে নিয়ে যাওন যায় না। বাচ্চারা স্কুলে যাবার পয় না। আমাদের খুব কষ্ট হয়ে গেছে, নির্বাচনের আগে অনেকেই আশ্বাস দিছে কিন্তু এহন কাউরে খুজ পাই না।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান বলেন, প্রায় দেড় কিলোমিটারের মতো ভাঙন রয়েছে। তার মধ্যে আমরা ১৫৭ মিটার কাজ করেছি বিগত বন্যায়। বর্তমানে আমরা আরও ২২০ মিটারের জন্য প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। এই কাজটাও অস্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজে বাস্তবায়িত হবে।
এছাড়া যমুনার বাম তীরে হঠাৎ চর জেগে উঠায় ডান তীরের দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।