চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার বাসায় ফিরছিলেন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। বাসে ওঠার পর বুলেট বৈরাগী ঘুমিয়ে পড়ায় একপর্যায়ে বাসটি কখন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড অতিক্রম করে তা টের পাননি তিনি। এমনকি তুলনামূলক নিরাপদ জায়গা কোটবাড়ি বিশ্বরোডও পার হয়ে যায় বাসটি। হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে কুমিল্লায় নামার কথা বললে বাসের হেলপার তাকে মহাসড়কের জাগুরঝুলি এলাকায় নামিয়ে দেন।
আধাকিলোমিটার সামনে গেলে তিনি নামতে পারতেন আলেখারচর বিশ্বরোডে। কাছাকাছি আরও নিরাপদ জায়গা থাকতে ঘুমের ঘোরে থাকা এবং বাস চালনার দায়িত্বে থাকাদের নির্বুদ্ধিতায় তাকে নেমে যেতে হয় অনিরাপদ স্থানে। আর এই অনিরাপদ স্থানে নেমেই বিপদ ডেকে আনেন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। শেষমেশ তাকে জীবনও দিতে হয়।
রাত ১টা ২৫ মিনিটে স্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেন বুলেট বৈরাগী। স্ত্রী ঊর্মি হীরাকে তিনি বলেন, 'ঘুমিয়ে পড়ো, আমার আসতে দেরি হবে।' এরপর পরিবারের সঙ্গে কথা হয়নি তার। বাসেই ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।
বুলেট বৈরাগীর মামা কার্তিক বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলার পর পরিবারের আর কারো সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি তার। ঘুমের মধ্যেই বাসটি পদুয়ার বাজার ওভারপাস হয়ে সামনের দিকে চলে আসে। এতেই সে ভুল স্থানে নেমে যায়। তার হাতে দুটি কাটা দাগ ছিল। ধস্তাধস্তির সময় ছোরা দিয়ে হয়তো আঘাত করা হয়েছে। যা হয়ে গেছে, তাকে আর ফেরত পারব না। তবে আমরা হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।
সূত্র থেকে জানা যায়, কুমিল্লা বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে বুলেট বৈরাগী যোগ দেন গত ৮ মাস আগে। সীমান্তে চাকরি হওয়ায় কুমিল্লার অনেক স্থান সম্পর্কে তার ধারণা ছিল না। যে স্থানে তাকে নামিয়ে দেওয়া হয় ওই স্থান থেকেও তিনি সরাসরি কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড়ে প্রবেশ করতে পারতেন। তবে রাত ৯টার পর শহরে প্রবেশের জন্য তেমন গাড়ি থাকে না। এরপর থেকেই এটি অনিরাপদ হয়ে পড়ে।
বাসে মাত্র আধামিনিটের পথ অগ্রসর হলে বুলেট বৈরাগী আলেখারচর বিশ্বরোড নেমে যেতে পারতেন। ওই স্থান থেকেও তিনি সহজে শহরে প্রবেশ করতে পারতেন।
এদিকে, সোমবার (২৭ এপ্রিল) কারওয়ান বাজারের র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ে আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, বুলেট বৈরাগী বাস থেকে নামার পর উল্টোপথের জাঙ্গালিয়ার গাড়ি খোঁজ করেন। সেখানে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় ওঁৎ পেতে থাকা পেশাদার ছিনতাইকারীরা বুলেট কোথায় যাবেন জানতে চান। তিনি বলেন, জাঙ্গালিয়ায় যাবেন। এসময় তারা তাকে গাড়িতে তোলেন।
তিনি আরও বলেন, ওই খুনের সঙ্গে জড়িত পাঁচ সদস্যের একটি পেশাদার ছিনতাইকারী চক্র। যাত্রী সেজে ফাঁদ পাতেন তারা। জড়িত সবাই কুমিল্লার কোতোয়ালি থানার বাসিন্দা। তারা হলো- ইমরান হোসেন হৃদয় (৩৭), মোহাম্মদ সোহাগ (৩০), ইসমাইল হোসেন জনি (২৫), মোহাম্মদ সুজন (৩২) ও রাহাতুল রহমান জুয়েল (২৭)।
তিনি জানান, হত্যার সঙ্গে জড়িত চক্রের সদস্যরা বুলেট বৈরাগীর কাছ থেকে মোবাইল ফোনসেট, ব্যাগ ও অল্প কিছু টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে চলন্ত সিএনজি অটোরিকশা থেকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়। মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের কারণে মারা যান তিনি।