১৫ লাখে বিক্রি হবে ‘লাল বাহাদুর’ ও ‘কালো মানিক’

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কক্সবাজারের খামারিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এর মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতিপাড়ার ‘মায়ের দোয়া ডেইরি ফার্মে’র দুটি বিশালাকার ষাঁড় এখন পুরো জেলার মানুষের নজর কেড়েছে। খামারমালিক নুরুল ইসলাম গায়ের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে ২২ মণ ওজনের অস্ট্রেলিয়ান জাতের একটি ষাঁড়ের নাম রেখেছেন ‘লাল বাহাদুর’ এবং ২০ মণ ওজনের অন্যটির নাম রেখেছেন ‘কালো মানিক’। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজা করা এই রাজকীয় ষাঁড় দুটির যৌথ দাম চাওয়া হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে লাল বাহাদুরের একক দাম ৮ লাখ টাকা এবং কালো মানিকের দাম ৭ লাখ টাকা।
 
সরেজমিনে মায়ের দোয়া ডেইরি ফার্মে গিয়ে দেখা যায়, খামারে শাহিওয়াল, বাহুবলী, বুলেট কিং, ডেঞ্জার লালুসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় নামের অন্তত ৪৫টি ষাঁড় কোরবানির হাটের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে সবার আকর্ষণ লাল বাহাদুর ও কালো মানিকের দিকেই। খামারের কর্মচারীরা জানান, তিন বছর বয়সী এই ষাঁড় দুটিকে মোটাতাজা করতে কোনো ধরনের কৃত্রিম ওষুধ বা হরমোন ব্যবহার করা হয়নি। প্রতিদিন এদের একেকটিকে ১৫ কেজি সবুজ ঘাস, ১৭ কেজি ভুসি, খইল ও খড়সহ সম্পূর্ণ দেশীয় পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো হয়। খামারমালিক নুরুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে ক্রেতারা লাল বাহাদুরের জন্য ৬ লাখ এবং কালো মানিকের জন্য ৫ লাখ টাকা দাম হাঁকিয়েছেন। তবে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে আমি এদের হাটে তুলব।
 
২০১৭ সালে মাত্র একটি গাভি দিয়ে যাত্রা শুরু করা নুরুল ইসলামের খামারে এখন গরুর সংখ্যা ৭৭টি। গত বছর এই খামার থেকে তিনি প্রায় ৩২ লাখ টাকা লাভ করেছিলেন। এবারও ভালো লাভের আশা করলেও তাঁর মনে কাজ করছে বড় ধরনের আতঙ্ক।

নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে আসা মিয়ানমারের রোগাক্রান্ত গরু ও মহিষ স্থানীয় হাটগুলোতে ঢুকে পড়ছে। কম দামের এই চোরাই পশুর কারণে দেশি খামারিরা ন্যায্য মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং দেশি গরুর মধ্যে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, চোরাই গরুর কারণে স্থানীয় খামারিদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ তাঁরা পেয়েছেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এ এম খালেকুজ্জামান জানিয়েছেন, এবার কক্সবাজার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ৩৪ হাজার ২৯৫টি, যার বিপরীতে খামারিদের কাছে প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ১৬৩টি পশু। ফলে জেলায় পশুর কোনো সংকট হবে না। আসন্ন কোরবানি উপলক্ষে জেলার ৫৬টি পশুর হাটে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য ২৭টি বিশেষ ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।