উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল ৩টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি ৫২ দশমিক ১৬ সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়, যা বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপরে। পানির তীব্র চাপ সামলাতে ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাটই খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২০ জুন) থেকেই তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছিল। উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পানির চাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে, ফলে পানি ভাটির দিকে প্রবাহিত হচ্ছে।
তিস্তার পানি বিপৎসীমা পার হওয়ায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই, পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, গয়াবাড়ী, খালিশা চাপানি ও ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চলের মানুষ বন্যার শঙ্কায় রয়েছেন। পানি আরও বাড়লে বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন সামান্য পানিতেই নদী ফুলে-ফেঁপে উঠছে।
খালিশা চাপানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুজ্জামান জানান, তিস্তা তীরবর্তী এলাকার মানুষ উদ্বিগ্ন। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বর্তমানে মাঠে তেমন কোনো মৌসুমি ফসল না থাকায় কৃষকদের বড় ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকলেও পুকুর ও গবাদিপশু নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের প্রয়োজনে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।