ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আবরও ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, আহত হিসাব রক্ষক

রেলপথে পাথর সন্ত্রাসের এক ভয়াবহ আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। চলন্ত ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে এক আয়কর আইনজীবীর চোখ হারানোর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জেলায় আবারও ঘটেছে একই নৃশংসতা। এবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনে বাইরে থেকে ছোড়া পাথরের আঘাতে নাইমুল হাসান নামে এক যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। পাথরের আঘাতে তার মাথা ফেটে যাওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে ৫টি সেলাই দিতে হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) রাত দেড়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের আউটার এলাকার পৈরতলার কাছে এই ঘটনা ঘটে। আহত নাইমুল হাসান ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি যখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে প্রবেশের জন্য আসছিল, তখন নাইমুল হাসান ট্রেন থেকে নামার প্রস্তুতি নিয়ে দরজার কাছে এসে দাঁড়ান। ঠিক ওই মুহূর্তে বাইরে থেকে আকস্মিকভাবে একটি পাথর এসে তার মাথায় আঘাত করে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই তার মাথা ফেটে তীব্র রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ট্রেনের সহযাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার মাথায় ৫টি সেলাই দেন।

পরপর দুই রাতে এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় সাধারণ রেলযাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় যাত্রীদের অভিযোগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা নতুন কিছু নয়। অতীতেও বারবার এ ধরনের বিপজ্জনক ঘটনা ঘটলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তা এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে রেলযাত্রীরা বলেন, শুধু সচেতনতামূলক প্রচারণা চালালেই হবে না, বরং ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথগুলোতে নিয়মিত টহল ও কঠোর নজরদারি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে এই অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিলে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

এই ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ আলম জানান, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় এক যাত্রী আহত হওয়ার খবর তারা পেয়েছেন। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

এর মাত্র এক দিন আগে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী ‘তূর্ণা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর স্টেশন অতিক্রম করার সময় দুর্বৃত্তরা ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে। সেই পাথর ট্রেনের জানালা ভেদ করে ভেতরে থাকা শ্যামল চন্দ্র দাস নামে এক আয়কর আইনজীবীর ডান চোখে এসে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বুধবার (২৪ জুন) সকালে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী অস্ত্রোপচার করা হলেও চিকিৎসকরা তার ক্ষতিগ্রস্ত চোখটি রক্ষা করতে পারেননি; শেষ পর্যন্ত চোখটি অপসারণ করতে হয়।