উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারত থেকে নেমে আসা পানির প্রবল চাপে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এতে নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার তিস্তাতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
ঘরে তোলা বাকি থাকা ধান, ভুট্টা ও বাদামখেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন কৃষকরা।
রোববার (২৮ জুন) রাত ৯টায় ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, এ সময় পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২৫ মিটার, যেখানে বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। এর আগে বিকেল ৩টায় পানির সমতল ছিল ৫২ দশমিক ০৩ মিটার। মাত্র তিন ঘণ্টায় পানি ২২ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। সকাল ৯টায় পানির সমতল ছিল ৫১ দশমিক ৯৭ মিটার এবং দুপুর ১২টায় ছিল ৫১ দশমিক ৯৮ মিটার।
পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী এবং জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়িসহ অন্তত ১৫টি চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, এখনো বসতবাড়িতে পানি না ঢুকলেও নিম্নাঞ্চল ও কৃষিজমি পানির নিচে চলে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিন বৃষ্টিপাত না থাকলেও হঠাৎ করেই তিস্তার পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে। পরে উজানের ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। অনেক চরে এখনো ফসল কাটা হয়নি। পানি আরও বাড়লে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
ডিমলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ি এবং জলঢাকার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের তিস্তাসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বড় ধরনের বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, প্রায় ১০টি চরাঞ্চলের আট হাজারেরও বেশি বাড়িঘর পানিতে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ডিমলা উপজেলার ছোটখাতা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মজিদ বলেন, ‘রাত গভীর হতেই পানি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে। নদীর গর্জন আর তীব্র স্রোতের শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিবার নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি। এখন বসতভিটা রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় চিন্তা।’
পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, ‘অনেক কৃষক মাছের ঘের জাল দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করছেন। অনেকে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন।’
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ‘উজানে ভারী বর্ষণের কারণে তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতিরিক্ত পানি নিরাপদে প্রবাহিত করতে ব্যারাজের সব জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী দিনগুলোতে পানি আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা জারি রেখেছে। সম্ভাব্য বন্যার কথা বিবেচনায় রেখে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।