ঢাকা থেকে লালমনিরহাটের বুড়িমারীর পথে চলন্ত বাসে ছেলেসন্তানের জন্ম দিয়েছেন আবিদা বেগম (২৮) নামে এক নারী। রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় প্রসববেদনা উঠলে বাস থামিয়ে এক ধাত্রীর সহায়তায় তার প্রসব করানো হয়। মা ও নবজাতক সুস্থ থাকায় পরে বাসের যাত্রীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
ব্যতিক্রমী এই ঘটনায় নবজাতকের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে আনাস এন্টারপ্রাইজ কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটির মালিক দিপু শিশুটিকে আজীবন বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি শিশুটি বড় না হওয়া পর্যন্ত তার মায়েরও বিনামূল্যে যাতায়াতের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আনাস এন্টারপ্রাইজের সুপারভাইজার মজনু মিয়া নবজাতকের বাড়িতে গিয়ে একটি দোলনা, বেবি বেড, মশারি ও বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রী উপহার দেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার জিরানী থেকে বাবা-মায়ের সাথে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের রমনীগঞ্জ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন আবিদা। তিনি ঢাকার জিরানীতে একটি বেসরকারি গার্মেন্টসে কর্মরত।
বাসটি রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় পৌঁছালে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হঠাৎ তার প্রসববেদনা শুরু হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে বাস থামিয়ে দেয়া হয়। পরে বাসে থাকা এক ধাত্রীর সহায়তায় সেখানেই প্রসবের ব্যবস্থা করা হয়। কিছুক্ষণ পর আবিদা একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন।
মা ও নবজাতক সুস্থ থাকায় সুপারভাইজার মজনু মিয়া বাসের যাত্রীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন। এরপর সতর্কতার সাথে বাসটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আবিদার সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য সময় ছিল আরও প্রায় ২০ দিন পর। সে কারণে তাকে নিয়ে বাবা-মা গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। কিন্তু পথেই বাসের মধ্যে সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটে।
বাসে জন্ম নেয়ায় নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে ‘আনাস হাসান’। বাসটির নামের সাথে মিল রেখে পরিবারের সদস্যরা তার এ নাম রাখেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে শিশুটিকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
আনাস এন্টারপ্রাইজের সুপারভাইজার মজনু মিয়া বলেন, মিঠাপুকুর এলাকায় ওই নারী হঠাৎ প্রসববেদনায় আক্রান্ত হলে বাস থামিয়ে ধাত্রীর সহায়তায় প্রসবের ব্যবস্থা করা হয়। বিষয়টি মালিককে জানানো হলে তিনি নবজাতকের জন্য উপহার পাঠানোর পাশাপাশি শিশুটিকে আজীবন বিনামূল্যে বাসে যাতায়াতের সুযোগ দেয়ার ঘোষণা দেন।
নবজাতকের নানা আবেদ আলী বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সন্তান প্রসবের সময় আরো প্রায় ২০ দিন পর ছিল। এ কারণে মেয়েকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। কিন্তু পথেই বাসের মধ্যে নাতির জন্ম হয়। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ রয়েছেন।
ফকিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজল রহমান খোকন বলেন, ‘ইউপি সদস্যের মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। বাসে সন্তান জন্ম দেয়ার ঘটনাটি এলাকায় বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।’