ধ্বংস হচ্ছে নলডাঙ্গা জমিদার বাড়ি

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের নলডাঙ্গা ইউনিয়ন। নলডাঙ্গার শেষ জমিদার ছিলেন তুলসী লাহিড়ী। তিনি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, ডাউয়াবাড়ি, বগুড়ার শেরপুর ও পশ্চিম দিনাজপুরের বিভিন্ন অঞ্চলের জমিদারি করতেন।

তার মৃত্যুর পর বাড়িটি দীর্ঘদিনও সংস্কার না হওয়ায় এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে বাড়িটিতে রয়েছে- টিনশেড একটি জমদিারি বৈঠকখানা, ভগ্নপ্রায় কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ ও শ্বেতপাথরের তৈরি বৃষ্ণ মন্দির এবং ভারতের কাশ্মীর থেকে আনা ছোট ছোট নকশা করা ইট ও পাথরের টুকরোয় তৈরি শ্রী শ্রী শৈলেশ্বর মন্দির যা ১২৮০ সালে তৈরি করা হয়েছে।

নিরাপত্তার অভাবে ইতোমধ্যে এই মন্দির দুটি থেকে চুরি হয়েছে কষ্টিপাথরের মূর্তি, শিবলিঙ্গ, দরজা ও তুলসী লাহিড়ীর ছবি। বাকি প্রত্নতাত্ত্বিক যেসব সম্পদ রয়েছে সেটিও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। জমিদারি আমলে খননকৃত ৫ একর ১৭ শতাংশ আয়তনের পুকুরটিও ব্যবহৃত হচ্ছে মানুষের ব্যক্তিগত কাজে। ইতিহাসের সাক্ষী হলেও সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে তুলসী লাহিড়ীর স্মৃতি বিজড়িত জমিদার বাড়িটি।

তুলসী লাহিড়ীর নাতি তন্ময় কুমার লাহিড়ী জানান, প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে জমিদার বাড়িটি দেখতে আসেন পর্যটকরা। এই জীর্নদশা দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যান তারা।

তুলসী লাহিড়ীর ভাতিজা মানস কুমার লাহিড়ী জানান, ইতিহাস ও ঐতিহ্যর সাথে জড়িত এই জমিদার বাড়িটি ধ্বংসের পথে। আগামী প্রজম্মের কাছে এই এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে বাড়িটি সংস্কার করার দাবি জানান তিনি।

জমিদার বাড়িটি সংস্কার ও স্মৃতি ধরে রাখতে বিভিন্ন দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ করার কথা জানিয়েছেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গফুর।

তিনি জানান, জমিদার তুলসী লাহিড়ী ১৯৫৯ সালের ২২ জুন কলকাতায় পরলোকগমন করেন।