পশ্চিম জোনের রেলপথের নিরাপত্তায় ৩১০০ কর্মী

দিনাজপুর জেলার ৪টি রুটে ৫২টি ট্রেন চলাচল করে। আর এই ৫২টি ট্রেন যেন নাশকতার কবলে না পরে এবং নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সে জন্য ৬৪টি পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছে করছে ৫১২ আনসার সদস্য। 

অপরদিকে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের ১৪৭টি ট্রেন নাশকতা ঠেকাতে প্রায় ১ হাজার ৮'শ কিলোমিটার রেলপথ নিরাপত্তায় নিয়োগ করা হয়েছে ১ হাজার ৩'শ আনসার সদস্য। আনসার সদস্যদের পাহারায় এই জোনে চলাচল করছে সব ট্রেন।

এছাড়াও এই জোনের রেলপথ পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে রেলওয়ের ১ হাজার ৮'শ কি-ম্যান/ওয়েম্যান। সবমিলিয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনে দেড় শতাধিক ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে রেলপথ পাহারায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে ৩ হাজার ১’শ নিরাপত্তাকর্মী।

শনিবার রাত ১১টায় দিনাজপুর-পার্বতীপুর রেললাইনের শেখপুরা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তীব্র শীত উপেক্ষা করে রেললাইন পাহারায় রয়েছে রবিন হোসেনসহ ৫ জন আনসার সদস্য। রবিন হোসেন জানান, রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত দায়িত্ব তাদের।

এই সময়ে ৫ জন আনসার সদস্য একদল হয়ে ৪ কিলোমিটার রেললাইন পাহারা দিচ্ছেন। সকাল ৮টার পর তাদের এখানে আসবেন ৩ জন আনসার সদস্য। ওই তিন জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। অর্থাৎ দিনে ৩ জন আর রাতে ৫ জন আনসার সদস্য দলভুক্ত হয়ে রেললাইন পাহারার দায়িত্ব পালন করছেন। 

দিনাজপুরে রেলওয়ে সুপার একেএম জিয়াউর রহমান বলেন, রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের অধীনে ১৪৭টি ট্রেন চলাচল করে। এরমধ্যে দিনাজপুরের ৪টি রুটে পার্বতীপুর-দিনাজপুর, পার্বতীপুর-রংপুর, পার্বতীপুর-নীলফামারী, পার্বতীপুর-ঢাকা রুটে আন্তঃনগর, মেইল, কমিউটার, লোকাল ও মালবাহীসহ ৫২টি ট্রেন চলাচল করে। বর্তমানে রেলপথ পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে আনসার সদস্যসহ রেলওয়ের কি-ম্যান/ওয়েম্যানরা। 

দিনাজপুর জেলার আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট মোঃ হাছান আলী জানান, দিনাজপুরের রেল পথের ৬৪ টি পয়েন্টে ৫১২ জন আনসার সদস্য নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। তারা দিন রাত পালা করে দায়িত্ব পালন করছে।

এর মধ্যে মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) দিনাজপুরের বিরামপুরে রেললাইনের উপর কংক্রিটের স্লিপার আড়াআড়িভাবে বসিয়ে দড়ি দিয়ে বেধে রাখা হয় বাঁশ ও গাছের ডাল। জ্বালানো হয় আগুন। এসময় ওই এলাকায় দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য ইফতেখার রহমান (৪৬) সেখানে আগুন জ্বলতে দেখে মাফলার খুলে ও টর্চলাইট জ্বালিয়ে ট্রেন থামার সংকেত দেন। ফলে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় ১ হাজার যাত্রী বোঝাই চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি। এই ঘটনাকে নাশকতার চেষ্টা বলে জানান বিরামপুর থানা পুলিশ।

রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোন সূত্রে জানা যায়, এই জোনে মোট রেলপথ প্রায় ১ হাজার ৮'শ কিলোমিটার। এই রেলপথে নিয়মিত চলাচল করে ১৪৭টি ট্রেন। এর মধ্যে ৪৬টি আন্তঃনগর, ৪৬টি মেইল ও কমিউটার ট্রেন, ৪৯টি লোকাল ট্রেন এবং ৬টি মালবাহী ট্রেন। সম্প্রতি রেলওয়ের বিভিন্ন স্থানে নাশকতামূলক কর্মকান্ড সংঘটিত হওয়ায় রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের ১ হাজার ৮'শ কিলোমিটার রেলপথে নেয়া হয়েছে সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রেলপথ পাহারার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে আনসার সদস্য।

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রকৌশলী মোঃ আসাদুল হক জানান, এই জোনে মোট রেলপথ প্রায় ১ হাজার ৮'শ কিলোমিটার। এই রেলপথ পর্যবেক্ষনের জন্য রয়েছে ১ হাজার ৮'শ কি-ম্যান। শীতকালে রেললাইন সংকোচন এবং গরমের সময় প্রসারিত হয়। এর কারণে রেললাইন ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। রেলপথ ঠিক আছে কি-না, তা পর্যবেণ করার জন্য রেলওয়ে বিভাগের এসব কি-ম্যান সার্বনিক দায়িত্ব পালন করে থাকে। 

রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, রেলে নাশকতামূলক কর্মকান্ড এড়াতে ১ হাজার ৮'শ জন কি-ম্যান এবং নতুন নিয়োগকৃত ১ হাজার ৩'শ জন আনসার সদস্যসহ মোট ৩ হাজার ১'শ জন নিরাপত্তাকর্মী সার্বক্ষণিক পাহারার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের মহাব্যবস্থাপক অসীম  কুমার তালুকদার জানান, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রতি রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনে নিয়োগ করা হয়েছে ১ হাজার ৩'শ আনসার সদস্য। এই জোনে মোট ১৫০টি পয়েট চিহ্নিত করে এসব আনসার সদস্য দুই শিফটে সার্বক্ষণিক পাহারা দিচ্ছেন, যাতে কেউ নাশকতা ঘটাতে না পারে।