মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ২০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা থেকে শুরু হয়েছে ২৪ জানুয়ারি। চলবে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত। যশোরের কেশবপুরে কপোতাক্ষ নদের পাড়ে আয়োজিত এ মেলা হাজার মানুষের প্রাণের উচ্ছ্বাসে জমে উঠেছে। ১৯৭৩ সাল থেকে এ মেলা আয়োজন করা হয়।
মেলা কর্তৃপক্ষ জানায়, হাজার-হাজার মধুপ্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত মেলা প্রাঙ্গণ। মধুমেলা মাঠে কঠোর নিরাপত্তা রয়েছে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। উন্মুক্ত মধুমঞ্চে প্রতিদিন চলছে আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক ও যাত্রাপালা।
জানা যায়, মেলাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে থাকছে বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি মেলা, সার্কাস, যাত্রা, জাদু, পুতুলনাচ, মৃত্যুকূপ, রকমারি স্টলসহ ১৫৭টি বড় স্টল। এ ছাড়া বিভিন্ন খাবারের দোকানসহ শত শত ছোট ছোট বিভিন্ন পসরার দোকান। হস্তশিল্প ও শিশুদের বিনোদনের সকল ব্যবস্থা রাখাও হয়েছে। প্রতিদিন মধুমঞ্চে থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কবির জীবনীর ওপর আলোচনা।
মেলার মাঠে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে শিশুদের খেলনা ও বিভিন্ন সৌখিন-শোপিস জাতীয় দ্রব্যাদি। বসে নেই চুড়ি, ফিতেসহ নারীদের সাজসজ্জার পসরা সাজিয়ে বসেছে কসমেটিকস দোকানিরা। রেশমি চুরি, নাকের ফুল, কানের দুল আর গলার মালার বাহারি প্রদর্শনী আকৃষ্ট করছে বলে জানান ঘুরতে আসা প্রত্যয়ী, সমৃদ্ধি ও পূর্ণতা।
সাতক্ষীরা থেকে পরিবার নিয়ে মধুমেলায় এসেছেন জামিল শেখ। তিনি বলেন, এখানকার পরিবেশ ও কবির স্মৃতিবিজড়িত পুরাতন বাড়িটি দেখলে কবিকে অনুভব করি। কবির জন্মস্থানে তার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মধুমেলা, আসলে এটার কোনো তুলনা হয় না।
মেলার মাঠের স্টলগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড়ও বাড়ছে। তবে হাজারও মানুষের আগমন ঘটলেও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ভালো। আর এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরাও সচেষ্ট রয়েছেন।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মধুমেলা উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব জাকির হোসেন বলেন, মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ৭ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ মধুমেলা আগামী ৩০ জানুয়ারি শেষ হবে।