লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে গত ৩ দিনে ৩ শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শিশুদের পরিবারের করা পৃথক মামলায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার সূবর্ণচর উপজেলার চর বাগ্গা গ্রামের মো. মোমিনের ছেলে মো. জিহাদ (২২), উপজেলার চর নেয়ামত গ্রামের অটোরিকশা চালক বাহার উদ্দিন (৬০)। তাদেরকে লক্ষ্মীপুর জেলে পাঠানো হয়েছে। মামলার আরেক আসামি চর বাদাম ইউনিয়নের কারামতিয়া এলাকার আবদুল খালেকের ছেলে মাকসুদকে (৪২) গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে চর নেয়ামত গ্রামে স্কুল থেকে ফেরার পথে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে একই এলাকার মৃত তছির আহমেদের ছেলে মো. বাহার উদ্দিন।
এ সময় শিশুর চিৎকার শুনে এলাকার লোকজন এগিয়ে এলে বাহার পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে পুলিশে দেয়। পরে ভুক্তভোগীর মা বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা করেন।
এ ছাড়া বুধবার সন্ধ্যায় চর আফজল গ্রামের ৭ বছরের শিশুকে রুমে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে চর আফজল নুরানি তালীমুল কোরআন ও এতিমখানার শিক্ষক মো. জিহাদ। এ ঘটনায় সেদিনই থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা। রাতেই আসামি জিহাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গত রোববার দুপুরে রামগতি পৌর ৭নং ওয়ার্ডের সমবায় গ্রামে ৭ বছর বয়সের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। অভিযুক্ত মাকসুদ চর বাদাম ইউনিয়নের কারামতিয়া এলাকার আবদুল খালেকের ছেলে। ঘটনার পর মাকসুদকে (৪২) শাস্তি হিসেবে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও বেত্রাঘাত করে এবং কান ধরে উঠবস করিয়ে গ্রাম ছাড়া করেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি ওঠে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে শিশুটির মা বাদি হয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।
রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. কবির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় গত তিন দিনে শিশুদের মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিদের মধ্যে জিহাদ, বাহার উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামি মাকসুদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।