একসময় বর্ষা এলেই ভোলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের নিচু জমি তলিয়ে যেত পানিতে। বছরের পর বছর পড়ে থাকত অনাবাদি। কিন্তু সেই জলাবদ্ধ জমিই এখন কৃষকের স্বপ্নের মাঠ। সর্জান পদ্ধতির চাষাবাদে একই জমিতে মিলছে মাছ ও সবজির উৎপাদন। ফলে বাড়ছে আয়, বদলাচ্ছে কৃষকের জীবন।
সবুজে মোড়া বিস্তীর্ণ এই মাঠগুলো একসময় বছরের বেশিরভাগ সময় থাকত পানির নিচে। বর্ষা মৌসুমে জমিতে চাষাবাদ ছিল প্রায় অসম্ভব। তবে কৃষি বিভাগের সহায়তায় সর্জান পদ্ধতি চালুর পর বদলে যেতে শুরু করে চিত্র। এই পদ্ধতিতে জমির মাটি তুলে তৈরি করা হয় উঁচু বেড (স্থানীয় ভাষায় আট )। সেখানে চাষ করা হয় বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফল। আর নিচের নালাগুলোতে চাষ করা হয় মাছ। ফলে একই জমি থেকে একসঙ্গে মিলছে দুটি আয়ের পথ।
চাষীরা বলেন, বিগত বছর গুলোতে কেবল একবার ধান ফলানো যেতো, তাও অনেক পরিশ্রম করতে হতো। আর এখন বিভিন্ন ধরনের সবজির পাশাপাশি মাছও পাওয়া যায়। এতে বাড়ছে আয়ের পরিধি, তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান। এই জায়গার মধ্যে একটি আইলে বিভিন্ন রকম ফসল চাষ করা যায়। যেমন: করলা, শসা, মিষ্টি কুমড়া, রেখা, লাউ ইত্তাদি। এই সর্জন পদ্ধতিতে চাষ করে খুবই লাভবান হচ্ছি আমরা।
কৃষক আব্দুল মালেক জানান, সর্জান পদ্ধতিতে এই আসলামপুরে প্রায় ৮০ শতাংশ জমিতে আমি প্রতিবছর ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মাল বিক্রি করি। ফসল যে পরিমাণ দিয়ে থাকি কিন্তু আমরা সেই পরিমাণ ন্যায্য মূল্য পাই না। এখানে সার দোকানগুলোতে থাকে সিন্ডিকেট। ঔষধ কোম্পানিগুলোর সিন্ডিকেট করে। এভাবে বাজারের যাদের কাছে আমরা মাল দিই বা বিক্রি করি ওরাও আমাদের সাথে সিন্ডিকেট করে। এর জন্য আমরা ন্যায্য মূল্য পাই না।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শুধু চরফ্যাশন উপজেলাতেই এবার প্রায় সাত হাজার হেক্টর জমিতে সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদ হয়েছে। এর ফলে ভোলার শস্যবিন্যাস বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫৮ শতাংশে। তিন ফসলি জমির পরিমাণ ৭০৪ হেক্টর থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৫৪ হেক্টর। চরাঞ্চলের শস্য নিবিড়তাও পৌঁছেছে ১৯৮ শতাংশে।
তবে উৎপাদন বাড়লেও বাজারজাতকরণে রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা। যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা, সংরক্ষণ সুবিধার অভাব এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষিপণ্যের সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।
ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক বলেন, এই পদ্ধতি বাস্তবায়নের জন্য কৃষি বিভাগ থেকে যত ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা আছে, এই ধরেন পোকা, রোগ এবং আগাছা গুলো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এবং প্রোটিন এবং ফলন বৃদ্ধির জন্য যত ধরনের আমাদের কার্যক্রম দরকার এগুলো পুরোটাই আমাদের কৃষি বিভাগ সহায়তা করে থাকে। মার্কেটিং ব্যবস্থার জন্য এটা আসলেই বাংলাদেশের একটা প্রত্যন্ত এলাকা। কৃষকরা খুব কাছাকাছি বিক্রয় করতে পারে। এটা যদি পরিবহনের মাধ্যমে ভোলা অথবা বরিশালসহ দেশে বিভিন্ন জেলায় নেওয়া যায়। আমি মনে করি কৃষক বর্তমান যে দাম পায় তার চেয়ে অধিক অধিক মূল্য পাবে। এর জন্য আমি সবাইকে আহ্বান জানাবো কৃষক যেন ন্যায্য মূল্য, ভালো দাম পাই সেজন্য সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টগুলো যেন ভালোভাবে কাজ করে।