বরগুনার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। অনুমোদিত ৮১টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৫ জন। শূন্য রয়েছে ৬৬টি পদ। এর মধ্যে ৫৫টি মেডিকেল কর্মকর্তা পদের ৪৭টিই শূন্য। আর ১৭টি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। এতে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২০১০ সালে হাসপাতালটি ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সে অনুযায়ী চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে শয্যা সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল না থাকায় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ছয় শতাধিক রোগী বহির্বিভাগে এবং ৩৫০ জনের বেশি রোগী অন্তর্বিভাগে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসক সংকটের কারণে একজন চিকিৎসককে দিনে ১০০ থেকে ১৫০ কিংবা তারও বেশি রোগী দেখতে হচ্ছে। ফলে রোগীদের প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
হাসপাতালের বিভাগগুলোতেও রয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট। মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, শিশু, অর্থোপেডিকস, চক্ষু, নাক-কান-গলা ও অ্যানেসথেসিয়াসহ বিভিন্ন বিভাগে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ না থাকায় জটিল রোগীদের বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। একই কারণে ব্যাহত হচ্ছে অস্ত্রোপচার কার্যক্রমও।
হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. তাজকিয়া সিদ্দিকাহ বলেন, চিকিৎসক সংকটের কারণে বহির্বিভাগে একজন চিকিৎসককে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ রোগী দেখতে হচ্ছে। এত বেশি রোগীর চাপের মধ্যে প্রত্যেককে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া সম্ভব হয় না।
আরএমও ডা. মাহমুদ মুরশীদ আল মামুন জানান, মাত্র দুজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে এত রোগীর চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. আবু ফাত্তাহ জানান, চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি সত্য। শূন্য পদে দ্রুত চিকিৎসক পদায়নের জন্য প্রতি মাসেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হবে।