৩২ বছর পর বাবার সন্ধান পেলেন পাকিস্তানে থাকা আছিয়া

রাজধানী ঢাকার মিরপুর থেকে নিখোঁজ হওয়া ৩২ বছর পর পরিবারের সন্ধান পেয়েছেন বরগুনার আছিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানে থাকা আছিয়ার সঙ্গে তার পরিবারের যোগাযোগ হয়েছে। সাত সন্তানের জননী আছিয়া দেশে ফিরে বাবা তমিজ উদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে দেখা করতে চান। দেশে ফিরতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালের দিকে ঢাকার মিরপুরের বড়বাগ থেকে বরগুনায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন আছিয়া। এরপর তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজি করেও মেয়ের সন্ধান না পেয়ে একসময় পরিবার গ্রামে ফিরে যায়। মেয়ের অপেক্ষায় থাকা আছিয়ার মা রাহেলা বেগম তিন বছর আগে মারা যান।

সম্প্রতি আছিয়ার বড় মেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মায়ের পরিচয় এবং বাংলাদেশে থাকা নানা তমিজ উদ্দিনের ঠিকানা জানিয়ে একটি পোস্ট দেন। বিষয়টি বরগুনার চারাভাঙ্গা গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের নজরে এলে তিনি আছিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তমিজ উদ্দিন, তার ছেলে মোস্তফা ও মেয়েদের ছবি পাকিস্তানে পাঠানো হয়। ছবিগুলো দেখে আছিয়া তার স্বজনদের চিনতে পারেন। ৩২ বছর পর পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়।

বর্তমানে প্রতিদিন মোবাইল ফোনে বাবার সঙ্গে কথা বলেন আছিয়া। তবে ৯০ বছর বয়সী তমিজ উদ্দিনের একটাই আকুতি, মৃত্যুর আগে একবার মেয়েকে সামনে থেকে দেখতে চান। তিনি বলেন, মরার আগে আমার আছিয়াররে একবার দেখতে চাই। আমার মাইয়াডারে আপনারা আইন্না দেন।

আছিয়া জানান, ১৯৯৪ সালে সদরঘাট এলাকায় এক নারীর খপ্পরে পড়ে তিনি পাচারের শিকার হন। তাকে অজ্ঞান করে প্রথমে ভারতে এবং পরে পাকিস্তানের মোজাফফরনগরে নেওয়া হয়। সেখানে ৪০ হাজার পাকিস্তানি রুপিতে তাকে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়। ওই ব্যক্তি পেশায় স্কুলশিক্ষক ছিলেন। তার সঙ্গে সংসার করে আছিয়ার ছয় মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর দেশে থাকা স্বজনদের কথা আরও বেশি মনে পড়তে থাকে তার।

তিনি আরও জানান, পরিবারের সন্ধান পেয়েছেন। বাবাকে দেখতে দেশে ফিরতে চান। পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন। দেশে ফিরতে প্রায় চার লাখ পাকিস্তানি রুপি প্রয়োজন। এত রুপি তার কাছে নেই। বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সরকারের সহযোগিতা চান তিনি।

বরগুনার জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার জানান, আছিয়ার বাংলাদেশের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র থাকলে পাকিস্তানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। প্রমাণপত্র না থাকলে পরিবারের সদস্যরা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারেন। বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।