বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশের সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারদরে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) এক কেজি ওজনের ইলিশের মণ ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে।
ব্যবসায়ী ও জেলেরা জানিয়েছেন, সাগরে মাছ কম পাওয়া এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইলিশের দাম বেড়েছে।
সরেজমিনে পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে দেখা যায়, সাগর থেকে ফিরে আসা অনেক ট্রলারে আশানুরূপ মাছ নেই। জেলেরা জানান, ইলিশের মৌসুম শুরুর পর থেকেই সাগর উত্তাল। এর মধ্যে দফায় দফায় সংকেত দেওয়ায় অনেক ট্রলার মাছ না ধরেই ঘাটে ফিরেছে। জাল ফেললেও অনেক সময় আশানুরূপ মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।
পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়তদার সমিতির সদস্য ছগির আলম বলেন, বাজারে বর্তমানে ইলিশের গড় ওজন ৩০০ থেকে ৪০০গ্রাম। তবে এক কেজি ওজনের ইলিশের পাইকারি দাম মণপ্রতি এক লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা মণ দরে।
বরগুনার গুলিয়াখালীর জেলে নূরুল ইসলাম বলেন, একটি ট্রলার সাগরে পাঠাতে ডিজেল, বাজার-সওদাসহ প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়। বড় ট্রলারের খরচ আরও বেশি। মাছ বিক্রির পর খরচ বাদ দিয়ে ট্রলারমালিক পান ১৬ ভাগের ১০ ভাগ এবং জেলেরা পান ছয় ভাগ। শ্রমিকদের মধ্যে মাঝি পান দুই ভাগ, অন্যরা এক ভাগ করে। মাছ না পেলে লোকসানের চাপ ট্রলারমালিককেই বহন করতে হয়।
পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য বাজারে ট্রলারমালিকদের বিক্রি করা মাছের ওপর ৮ দশমিক ৫ শতাংশ হারে আড়তদারি দিতে হয়। এর মধ্য থেকে আড়তদার বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনকে (বিএফডিসি) সরকারি রাজস্ব হিসেবে ১ দশমিক ২৫ শতাংশ দেন।
মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত পাথরঘাটায় প্রায় ১২০ মেট্রিক টন ইলিশ ও ৩৫ মেট্রিক টন অন্যান্য মাছ বিক্রি হয়েছিল। এতে সরকারি রাজস্ব আসে প্রায় ১৪ লাখ টাকা। চলতি বছরের একই সময়ে ইলিশ বিক্রি হয়েছে প্রায় ৯০ মেট্রিক টন এবং অন্যান্য মাছ ৮৯ মেট্রিক টন। এতে রাজস্ব এসেছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার-মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় বারবার মাছ ধরা ব্যাহত হচ্ছে। এতে মাছের সরবরাহ কমেছে। অন্যদিকে ট্রলার পরিচালনার খরচ কমেনি, বরং বেড়েছে। ফলে ইলিশের দামও বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, পাথরঘাটাসহ উপকূলীয় এলাকায় প্রায় শতাধিক অবৈধ ট্রলিং ট্রলার গভীর সাগরে নির্বিচারে মাছ শিকার করছে। এগুলো বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে সাগর মৎস্যশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বৈরী আবহাওয়ায় বিপাকে জেলেরা
পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, বৈরী আবহাওয়া ও সাগর উত্তাল থাকায় ট্রলারগুলো স্বাভাবিকভাবে মাছ ধরতে পারছে না। দফায় দফায় সংকেত দেওয়ার কারণে অনেক ট্রলার সাগরে অবস্থানও করতে পারছে না।
হাসিবুল হক বলেন, অবৈধ কাঠের তৈরি ট্রলিং ট্রলার জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করছে। তবে এসব বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় অনেক ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।