ঘূর্ণিঝড় রিমালের ক্ষত মুছে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’-এর প্রভাবে সহায়সম্বল হারানো চরাঞ্চচলের দুর্গত পরিবারগুলো এখন অতি কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। রিমাল চলে গেলেও উপকূলের ২৩টি চরে রেখে গেছে তার ক্ষতবিক্ষত চিহ্ন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওরীন হকের তথ্য মতে, ঘুর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে চরফ্যাশনে সাড়ে পাঁচ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। যার মধ্যে ২ হাজার সম্পূর্ণ এবং প্রায় সাড়ে ৩ হাজার। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৫ হাজার মানুষ। বিভিন্ন দপ্তরের তালিকা অনুযায়ী উপজেলায় ২৪৩ কোটি ৩ লাখ ৮২ হাজার ৫শ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জানা যায়, রিমালের প্রভাবে চরফ্যাশন উপজেলার ৯ ইউনিয়নের ৮১টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৩টি স্থানে প্রায় ১২শ মিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে গৃহহারা হয়েছে ২ হাজার পরিবার। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা সাড়ে ৩ হাজার। জোয়ারে ভেসে গেছে ১ হাজার ৫শ ৩৫টি ছাগল ও ভেড়া। মৃত ও ভেসে যাওয়া গরু মহিষের সংখ্যা ১ হাজার ৫শ ৮০টি ।

ঘূর্ণিঝড়ের পরে সরকারের পক্ষ থেকে নিম্নাঞ্চলের মানুষ জন্য (ক্ষতিগ্রস্ত ৯টি ইউনিয়নে) মাত্র ৭৫ মে.টন চাউল, আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা অবস্থায় রাতে খাওয়া বাবত ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা ও সামান্য কিছু শুকনো খাবার দিলেও ঘূর্ণিঝড়ের ৬ দিন পরে ও ঘুরে দাঁড়ানোর মতো কোনো সহায়তা এখনো পৌঁছেনি তাদের কাছে। 

এদিকে ঘরবাড়ির পরই বেশি ক্ষতি হয়েছে গবাদি পশুর। এ মুহুর্তে মহিষ গরু নিয়ে চাষিরা বিপাকে পড়েছে। মিঠা পানি আর গৌখাদ্যের সংকট চরমে। ঢাল চর, কুকরি মুকরি ইউনিয়নের মতোই চর নিজাম, কলাতলির চর, চর জহির উদ্দিনেও ক্ষতিগ্রস্তরা দুর্ভোগে আছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ডিভিশন-২) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাসান মাহামুদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রিমালের তাণ্ডবে চরফ্যাশনের তিনটি পয়েন্টে ১২শ মিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের খেজুর গাছিয়ায় ৫শ মিটার আংশিক এবং নজরুল নগর ও নীলকমল ইউনিয়নে ৭শ মিটার বাঁধ সম্পূণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জোয়ারের পানি যেন ঢুকতে না পারে তার জন্য কাজ শুরু করা হয়েছে। 

চরফ্যাশন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রহমত উল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, শনিবার পর্যন্ত তারা ১৩৪টি পশু মারা যাওয়ার খবর পেয়েছেন। ক্ষয়-ক্ষতির তালিকার কাজ চলছে। তবে দক্ষিণের চরগুলোতে নোনা পানির কারণে মহিষের বিভিন্ন অসুখ দেখা দিয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের টিম চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

চরফ্যাশন উপজেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের চিহ্নিত করে তাদের কাছে শুকনো খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যাদের ঘর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ টাকা ও ঢেউটিন বরাদ্দ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা কি অবস্থায় আছে তা চিহ্নিত করার পর তাদের পুনর্বাসন করা হবে।