কক্সবাজারের টেকনাফে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বিপুল পরিমাণ ছুরি মাছ। শনিবার দুপুরে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ১০৯ মণ ছুরি মাছ আহরণ করেন স্থানীয় জেলেরা। একসঙ্গে এত মাছ ধরা পড়ায় টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালীয়াপাড়া নৌঘাটে জেলে, নৌকার মালিক ও মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনন্দের আবহ তৈরি হয়।
জানা গেছে, শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালীয়াপাড়া নৌঘাট থেকে ২৫ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে নৌকার মালিক মৌলভি হাফেজ আহমদ–এর মালিকানাধীন একটি নৌকা সাগরে মাছ ধরতে যায়। দুপুর ১টার দিকে জাল টেনে তোলার সময় ঝাঁকে ঝাঁকে ছুরি মাছ উঠে আসে।
পরে পাল্লায় মাপ দিয়ে দেখা যায়, ধরা পড়া মাছের পরিমাণ প্রায় ১০৯ মণ। সাগর পাড়েই স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি মণ ৭ হাজার ৫০০ টাকা দরে মাছগুলো বিক্রি করা হয়। এতে মোট বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ৮ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নৌকার মালিক মৌলভী হাফেজ আহমদ বলেন, ‘এতগুলো ছুরি মাছ ধরা পড়ায় জেলেরা খুবই খুশি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।’
টানা জালের মাঝি মোহাম্মদ ইসলাম বলেন, ‘২৫ বছর ধরে মাছ ধরছি। একসঙ্গে এত মাছ উঠলে যে কী আনন্দ লাগে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এখলাস জানান, ‘ধরা পড়া ছুরি মাছগুলো চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পাঠানো হবে।’
টেকনাফ উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তার প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘টেকনাফ সমুদ্রসৈকতে এক জেলের জালে ১০৯ মণের বেশি বিভিন্ন প্রজাতির ছুরি মাছ ধরা পড়েছে। ছুরি মাছ দিয়ে সাধারণত প্রচুর শুঁটকি উৎপাদন হয় টেকনাফে। শীতের মৌসুমি ছুরি মাছ সাগরের প্রজনন বেশি হয়। মাছের প্রজনন ও ডিম ছাড়ার সময়ে ৬৫ দিন সাগরে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকে।’