নবীনগরে কৃষিতে জনপ্রিয় হচ্ছে জিরো টিলেজ আবাদ

কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জিরো টিলেজ বা বিনা চাষে আবাদ পদ্ধতি। জমি চাষ না করে কিংবা স্বল্প চাষে ফসল উৎপাদনের এ কৌশল কৃষকদের সময়, শ্রম ও খরচ কমিয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

‎কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জিরো টিলেজ পদ্ধতিতে আগের ফসলের অবশিষ্টাংশ রেখেই সরাসরি বীজ বপন করা হয়। এতে উৎপাদন ব্যয় কমে এবং সেচের প্রয়োজনও হ্রাস পায়। নবীনগরে সরিষা, মসুর, খেসারি ও রসুনে এ পদ্ধতিতে ভালো ফলন পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি হালকা বালুমাটিতে বাদামও সফলভাবে আবাদ হচ্ছে।

‎রাজস্ব অর্থায়নে কুমিল্লা অঞ্চলের টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বি-স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় চলতি মৌসুমে নবীনগরের ২১টি ইউনিয়নের শতাধিক স্থানে সরিষা, বাদাম ও ডালজাতীয় ফসল জিরো টিলেজ পদ্ধতিতে আবাদ করা হয়েছে।


‎শ্রীরামপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের কৃষক রাজিব মিয়া জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে বিনা চাষে সরিষা আবাদ করে তিনি খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমাতে পেরেছেন। মাটির আর্দ্রতা ধরে থাকায় সেচও কম লাগছে বলে জানান তিনি।

‎বিদ্যাকুট ইউনিয়নের কৃষক কুলসুম আক্তার বলেন, প্রথমবার বিনা চাষে সরিষা আবাদ করে ভালো ফলন দেখে আশপাশের কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

‎উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে প্রায় ২৫০ বিঘা জমিতে রিলে পদ্ধতিতে ও বিনা চাষে সরিষা আবাদ করা হয়েছে। এছাড়া মসুর ২৫ বিঘা, রসুন ১০ বিঘা এবং বাদাম ২৫ বিঘা জমিতে জিরো টিলেজ ও স্বল্প চাষে আবাদ হয়েছে।

‎উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, জিরো টিলেজ পদ্ধতি মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে, জৈব পদার্থ বাড়ায় এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমে লাভ বাড়ে।

‎কৃষি বিভাগ মনে করছে, সঠিক প্রশিক্ষণ ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানো গেলে নবীনগরে জিরো টিলেজ আবাদ আরও বিস্তৃত হবে এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার পথে অঞ্চলটি এগিয়ে যাবে।