কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত ১২ জনের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পক্ষ থেকে নিহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়।
নিহতরা হলেন যারা:হাসপাতালের রেজিস্ট্রার অনুযায়ী নিহতরা হলেন- নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর বাবুল চৌধুরী (৫৩), ঝিনাইদহের মহেশপুরের লাইজু আক্তার (২৬) ও তার দুই মেয়ে খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৪), চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের সোহেল রানা (৪৬), যশোরের চৌগাছার সিরাজুল ইসলাম (৬২) ও তার স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫), নোয়াখালীর নজরুল ইসলাম রায়হান (৩৩), লক্ষ্মীপুরের শিশু সায়েদা (৯), ঝিনাইদহের জোয়াদ বিশ্বাস (২০), মাগুরার ফচিয়ার রহমান (২৬) এবং চাঁদপুরের মমিনুল হকের ছেলে তাজুল ইসলাম (৬৮)।
শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেন ‘মামুন পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ট্রেনের ধাক্কায় বাসটি অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে ছিটকে যায়। ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর মোট নিহতের সংখ্যা ১২ জনে দাঁড়ায়।
দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বিত উদ্ধার অভিযানে এবং আখাউড়া থেকে আসা রিলিফ ট্রেনের সহায়তায় লাইন পরিষ্কার করা হয়। আজ সকাল ৮টার দিকে পুনরায় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দাফন সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে মোট ৩টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।