কুমিল্লায় আলোচিত কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে র্যাব-১১।
র্যাব জানায়, তিনি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়ে প্রাণ হারান। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- জনি, হৃদয়, সোহাগ জুয়েল সহ পাঁচজন। তারা সবাই পেশাদার ছিনতাইকারী। কুমিল্লা ও আশপাশের জেলা থেকে এসে হাইওয়ে রোড সংলগ্ন ডাকাতি-ছিনতাই এর উদ্দেশ্যে। ঘটনার দিন নিহত কাস্টমস কর্মকর্তা কুমিল্লা হাইওয়েতে সিএনজির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় গ্রেফতারকৃত ৫ জন যাত্রীবেশে বৈরাগীকে সিএনজিতে তোলে। এরপর হত্যার মিশন সফল করে লাশ কুমিল্লার ময়নামতি সংলগ্ন একটি হোটেলের পাশে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর থানায় মামলা করেন। পরে গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে রোববার (২৬ এপ্রিল) তাদের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা সঙ্গবদ্ধ অপরাধচক্রের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা ও আশপাশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। মূলত ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে তারা বৈরাগীকে তুলে প্রথমে যাত্রীবেশে আগেই সিএনজিতে দুই খনি বসেছিল। এক পর্যায়ে সিএনজির ভেতর সন্দেহভাজন খুনিদের সঙ্গে কাস্টম কর্মকর্তার কথা কাটাকাটি হয়, এক পর্যায়ে ছিনতাইকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বৈরাগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। এক পর্যায়ে তারা বৈরাগীর মৃত্যু নিশ্চিত করে তার মরদেহ ফেলে রেখে যায়।
জানা গেছে, নিহত বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) হিসেবে কাস্টমস, এক্সারসাইজ ও ভ্যাট বিভাগে যোগ দেন এবং কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন। বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে গত ১১ এপ্রিল সেখানে যান। প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রামের অলংকার মোড় থেকে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে পরিবারের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সর্বশেষ রাত ১টা ২৫ মিনিটে তিনি ফোনে জানান, তিনি কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন। এরপর থেকেই তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরদিন শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।