একে-৪৭ অস্ত্র উদ্ধার

খাগড়াছড়িতে পৃথক ঘটনায় দুই ইউপিডিএফ সদস্য নিহত

খাগড়াছড়িতে দুটি পৃথক ঘটনায় দুইজন ইউপিডিএফ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একজন অস্ত্রধারীদের গুলিতে ও অপরজন সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। এসময় সেনাবাহিনীর অভিযানে একে-৪৭ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

জেলার দীঘিনালায় অস্ত্রধারীদের গুলিতে নিহত হয়েছে ইউপিডিএফ সদস্য সুজন চাকমা (৪৮)। তিনি কবাখালি ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের তারাবন্যা গ্রামের বাসিন্দা বিনন্দ মোহন চাকমা ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দীঘিনালা থানা অফিসার ইনচার্জ ইকবাল বাহার। এদিকে-ইউপিডিএফ এর পক্ষ থেকে এই হত্যাকান্ডের জন্য সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র জেএসএসকে দায়ী করা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে জেএসএসের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। বুধবার (২৪ জুন) সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফের খাগড়াছড়ি জেলা সংগঠক অংগ্য মারমা এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

তিনি বলেন, বুধবার দুপুরে চিনুমং মারমার পরিচালিত সশস্ত্র গ্রুপের কমান্ডার পূর্ণ প্রিয় চাকমার নেতৃত্বে জেএসএস (সন্তু)-এর ৫-৬ জনের একদল সশস্ত্র সদস্য সাধারণ পোশাক পরিহিত অবস্থায় বাবুছড়া মুড়োপাড়া চৌমুহনী রাস্তার মোড় এলাকায় অতর্কিতে হানা দেয়।

এ সময় সেখানে সাংগঠনিক কাজে অবস্থানরত ইউপিডিএফ সদস্য সুজন চাকমাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এদিকে খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর সাথে ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ) এর সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবী করেছে সেনাবাহিনী।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে রামগড় ও মাটিরাঙ্গার উপজেলার সীমান্ত তৈকাথান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ইউপিডিএফ সদস্য ববিন ত্রিপুরা নামের এক সদস্য নিহত হয়েছে এবং সুনিল ত্রিপুরা নামক অপর এক সদস্য আহত হয়েছে।

নিহত ববিন ত্রিপুরা রামগড় মাজারা টিলা এলাকার বাসিন্দা এবং আহত সুনিল ত্রিপুরা রামগড় দাতারামপাড়ার কমল বিকাশ ত্রিপুরার ছেলে বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থল হতে সেনাবাহিনী একটি একে-৪৭ উদ্ধার করেছে বলে সূত্র দাবি করেছে।

সেনাবাহিনীর সাথে ইউপিডিএফের গোলাগুলি ও অস্ত্র উদ্ধারের দাবিকে মিথ্যা, বানোয়াট ও পরকল্পিত উল্লেখ করে, পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউপিডিএফের নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনকে বানচাল করে দেয়ার লক্ষ্যে বিচার বহির্ভুত কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ করেন।

দীঘিনালায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে অংগ্য মারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউপিডিএফের নেতৃত্বে চলমান গণআন্দোলন দমন করতে সন্তু লারমার যোগসাজশে ইউপিডিএফের ওপর হামলা ও নেতা-কর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

এ সময় দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ড চালিয়ে ইউপিডিএফকে দমিয়ে রাখা যাবে না মন্তব্য করে অবিলম্বে সুজন চাকমার খুনি সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও শাস্তি এবং সন্তু লারমাকে আঞ্চলিক পরিষদ থেকে অপসারণ করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।