কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মহেশপুর গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের বর্বরোচিত হামলায় রাশিদা আক্তার (৪২) নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এই নৃশংস ঘটনায় নিহতের দুই মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৮) ও আছিয়া আক্তার (১৫) গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার মহেশপুর বাজার এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত রাশিদা আক্তার ওই গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। প্রায় ছয় মাস আগে এই একই বিরোধের জেরে আলম নামের এক ব্যক্তি খুন হন। ওই হত্যা মামলায় দেলোয়ার হোসেনকে আসামি করা হলে প্রাণভয়ে তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বাড়িছাড়া ছিল। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাশিদা আক্তার তার দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে নিজ বাড়ি থেকে একটি গরু তার বাবার বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে তারা মহেশপুর বাজারে পৌঁছালে পূর্ব ওত পেতে থাকা একদল লোক আকস্মিক তাদের ওপর হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকে।
হামলায় রাশিদা আক্তার ও তার দুই মেয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। ঘটনার পর স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে দ্রুত মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে রাশিদার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করেন। তবে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা নেওয়ার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই গৃহবধূ।
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে নিহতের ভাই সালাউদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পূর্ব শত্রুতাকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পিতভাবে তার বোনের ওপর এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে তারা দ্রুতই থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব বিরোধের জের ধরেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।