‘তিন কানি (৯০শতাংশ) জমি চাষ করতে কানি প্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বেচার বেলায় দাম পাই না। আগে ভাগেই সরকার একটা দাম নির্ধারন করলে অনেক ভাল হত। তাহলে আমরা সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে পাট বেঁচতে পারতাম। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, সরকার যেন একটা দাম নির্ধারন করে দেয়।’ কথাগুলো বলছিলেন পাটচাষী রিপন মিয়া।
চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে চলছে পাটকাটা,‘পাট মারাই ও পাট শুকানোর কাজ। পাট চাষিদের অভিযোগ সরকার পাটের আগাম বাজার মূল্য নির্ধারন না করায়,‘ দালাল ফরিয়ার কাছে কমদামে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এদিকে ফি-বছর পাটের উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাড়েনি পাটের কাঙ্খিত দাম। তাই পাটের ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় থাকেন কৃষকেরা। এ অবস্থায় অনেক কৃষকই পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তবে কৃষি বিভাগের দাবী কৃষকেরা পাটের ন্যায্যমূল্য পেয়ে লাভবান হচ্ছেন।
সরেজমিনে হাওর অঞ্চল ঘুরে কৃষকদের সাথে কথাবলে জানাযায়, এক সময় বাংলাদেশের সোনালী আঁশ খ্যাত পাট বিদেশে রপ্তানী করা হত। তবে পাটের সেই সোনালী দিন গুলো এখন আরনেই। তবে বংশ পরম্পরায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের পাট চাষীরা এখনো পাটের আবাদ করে যাচ্ছেন। চলতি বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায়,‘পাটের ভাল ফলন হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকায় এখন চলছে পাটকাটা, পাট মারাই এবং পাট শুকানোর কাজ। চাষিরা জানান,‘ পাটের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তাই সরকারী ভাবে পাটের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবী তাদের।
পাটচাষী ওসমান মিয়া জানান,' এককানি জমি (৩০শতাংশ) রূপন করতে খরচ হয়,’ ৮থেকে ১০ হাজার টাকা। কিন্তু পাটের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় খরচ উঠানো মুসকিল হয়ে পরেছে।
তিনি বলেন, পাট কাটা শ্রমিককে ৭শত থেকে ৮শত টাকা মুজরি দিতে হয়। পাটের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় দালাল ফরিয়াদের দারস্ত হতে হয়। গ্রামের সাধারন কৃষকেরা বুঝে না বুঝে কমদামে পাট বিক্রি করতে বাধ্য হয়। আর এই সুযোগে দালাল ফরিয়ারা পাটের গুদামে পাট মুজুত করে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে তারা লাভবান হচ্ছেন। আর কৃষক মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্ট করে ফসল ফলিয়ে লাভের মুখ দেখতে পায় না। এ জন্যে সরকারের পক্ষ থেকে পাটের আগাম মনপ্রতি বাজার মূল্য নির্ধারন করা জরুরী। এতে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকেরা লাভবান হবেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরে উপ-পরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন জানান,’ চলতি মৌসুমে হাওর বেষ্টিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, সরাইল, বিজয়নগর, নবীনগর এবং বাঞ্ছারামপুর এলাকার ৪ হাজার ৫শ ৭৫ হেক্টর জমিতে দেশী, কেনাফ, মেছতা এবং তোষা জাতের পাটের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে কেনাফ, মেছতা, তুষা ও দেশী জাতের পাট রয়েছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভাল হয়েছে। বাজারদর ভাল থাকায় কৃষকেরা ন্যাযমূল্য পাবে আশা করি। এবছর পাটের যে উৎপাদন হয়েছে তার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা হবে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আবু বকর জানান, পাটের ব্যবহার বাড়াতে আমাদের ’অন দ্যা জব’ নামে একটি প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা আছে। সেখানে ১১ দিনের প্রশিক্ষনে পাটের ব্যবহার বৃদ্ধির উপর প্রশিক্ষন করানো হয়। এই পাটজাত পণ্য যেন বিদেশে রপ্তানী করা যায়, ’সেখানে সেই সুযোগ রয়েছে। আমরা বলেছি, যদি কেউ পাট নিয়ে কাজ করতে চায়, তাহলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা সে সুযোগ করে দিব।