রাঙামাটিতে নিরাপদ সড়কের চ্যালেঞ্জ

সীমিত জনবল নিয়েই ট্রাফিক পুলিশের প্রতিদিন নিরলস প্রচেষ্টা

হ্রদ-পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা পার্বত্য জেলা রাঙামাটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন নগরী। প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক কাপ্তাই হ্রদ, ঝুলন্ত সেতুসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান দেখতে ছুটে আসেন এখানে। তবে পর্যটনের অপার সম্ভাবনার এই শহরের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ এখনো নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ সড়কব্যবস্থা নিশ্চিত করা। সীমিত জনবল, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, পার্কিং সংকট এবং অপরিকল্পিত যান চলাচলের মধ্যেও ট্রাফিক পুলিশ প্রতিদিন যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রায় পাঁচ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রাঙামাটি শহরে চলাচল করে প্রায় দুই হাজার অটোরিকশা। পাহাড়ি, আঁকাবাঁকা ও উঁচু-নিচু সড়কে এই অটোরিকশাই নগরবাসীর প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম। তবে অদক্ষ চালনা, অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

যাত্রী ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে স্থায়ী ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয়। অধিকাংশ ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান, পর্যটন পরিবহন কোম্পানি এবং বড় বিপণিবিতানের নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় সড়কের ওপরই যাত্রী ওঠানামা এবং মালামাল লোড-আনলোড করতে হয়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে সড়কের ওপর অস্থায়ী বাজার বসানো এবং অবৈধ পার্কিং যান চলাচলে বাড়তি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। চালক ও যাত্রীদের মতে, পর্যাপ্ত পার্কিং ও আধুনিক টার্মিনালের অভাব রাঙামাটির ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় সীমাবদ্ধতা।
রাঙামাটি ট্রাফিক বিভাগের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জামান শিকদার বলেন, যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সাধারণ মানুষ ও চালকদের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। শহরের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হয় এবং দায়িত্ব পালন করতে পুলিশকে অতিরিক্ত বেগ পেতে হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক সংকেত অমান্য করার প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এসব বিষয়ে সবাই সচেতন হলে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
তিনি জানান, নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ট্রাফিক পুলিশ নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণা, চালকদের উদ্বুদ্ধকরণ এবং আইন প্রয়োগ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গত এক মাসে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় প্রায় ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এসব অভিযানের মূল উদ্দেশ্য শাস্তি দেওয়া নয়; বরং চালকদের আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা।

টিআই জামান শিকদার বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। চালক, যাত্রী এবং সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। সবার সম্মিলিত সচেতনতা ও সহযোগিতা থাকলে রাঙামাটিকে আরও নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও পর্যটনবান্ধব শহরে পরিণত করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, অপ্রতুল জনবল ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তার সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও ট্রাফিক পুলিশ সেবার মানসিকতা নিয়েই দায়িত্ব পালন করছে। প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ও সচেতনতা বাড়লে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই পুলিশের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

জেলা ট্রাফিক বিভাগের তথ্যানুসারে, বর্তমানে রাঙামাটি শহরে প্রায় ১৩০ জন পুলিশ সদস্য ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।