মুরাদনগর উপজেলার টনকীতে গৃহবধূ আফসানা আক্তার হ্যাপি(২৮) হত্যার একমাত্র আসামি গোলাম জিলানী (৩২)কে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে চৈনপুর গ্রামবাসী।
শনিবার (১১জুলাই) দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়কের টনকী বাজার এলাকায় এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। এতে চৈনপুর গ্রামের শত শত নারী পুরুষ অংশগ্রহন করেন। এসময় সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধন শেষে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, টনকী গ্রামের বারিয়াপাড়া এলাকার কনু মিয়ার ছেলে বখাটে গোলাম জিলানী দীর্ঘদিন ধরে চৈনপুর গ্রামের গৃহবধূ আফসানা আক্তার হ্যাপিকে উত্যাক্ত করার পাশাপাশি কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। তার বাচ্চাদের বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি দিতো। তার কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ৬ই জুলাই দুপুরে গৃহবধূ হ্যাপির বাড়িতে পুরুষ লোক না থাকার সুবাদে জিলানী জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে হ্যাপিকে মুখ চেপে ধর্ষণ করে।
ধর্ষণ শেষে হ্যাপি আক্তারের মুখে জোরপূর্বক কেরির (পোকানাশক) ট্যাবলেট খাইয়ে পালিয়ে যায়। এসময় তার শোর-চিৎকারে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
বক্তারা আরও বলেন, গৃহবধূ হ্যাপির ৩টি অবুঝ কন্যা শিশু রয়েছে, এই খুনের একটি পরিবার এবং ৫টি জীবন ধ্বংশ হয়ে গেছে। আজকে ৭দিন পেরিয়ে গেলেও এই নরপিশাচ খুনি জিলানীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। খুনিকে ধরতে পুলিশ প্রশাসনের কোন ভূমিকা চোখে পড়ছেনা। প্রশাসন যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিকে গ্রেপ্তারর না করে তাহলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।
এসময় বক্তব্য রাখেন, মাওলানা আলাউদ্দিন, মাহমুদ হানজালা, সেলিম মুন্সী, আল আমিন, শিশু মরিয়ম ও আয়েশা আক্তার।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, লোকমান হোসেন, আবদুর রহমান, ইমরান মাজহারী, ওমর ফারুক, মাহফুজুল ইসলাম, ক্বারী আতিকুর রহমান, হৃদয় মাহমুদ।
উল্লেখ্য, গৃহবধূ আফসানা আক্তার হ্যাপি হত্যার ঘটনায় তার স্বামী আল আমিন বাদী হয়ে গত ৭ জুলাই বাঙ্গরা বাজার থানায় গোলাম জিলানীকে একমাত্র আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এব্যাপারে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আলম বলেন, ঘটনায় থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তারের পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।