কুমিল্লায় সড়ক দিয়ে নৌকায় চড়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে গেলেন পরীক্ষার্থীরা

টানা ৩ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। পরে নৌকায় করে পরীক্ষার কেন্দ্রে যেতে দেখা গেছে অনেককে।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের সামনে এ দৃশ্য দেখা যায়।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার(১৩ জুলাই) সকালে কুমিল্লায় তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকার অনেকাংশ পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমরসমান পানি জমে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েন বাসিন্দারা। এ সুযোগে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়া দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা।

সোমবার (১৩ জুলাই) এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থবিজ্ঞান, ব্যবসা বিভাগের হিসাব বিজ্ঞান ১ম পত্র এবং মানবিক বিভাগের যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ সময় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে যান কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নৌকার ব্যবস্থা করা হয়।

কয়েকজন অভিভাবক সাংবাদিকদের বলেন, সন্তানদের নৌকায় করে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে হয়েছে। প্রবেশপত্র বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পানিতে পড়ে গেলে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হতো। তাদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত ছিল পরীক্ষা কয়েকদিন পিছিয়ে দেওয়া।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান পারভেজ বলেন, ভারী বৃষ্টিতে কেন্দ্রের সামনের সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও কোনো পরীক্ষাকক্ষের ভেতরে পানি প্রবেশ করেনি। যেসব পরীক্ষার্থী বিলম্বে কেন্দ্রে পৌঁছেছে, তাদের বিষয়ে সহানুভূতিশীল হতে কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা দিতে সমস্যা হবে না বলে তিনি আশাবাদী। 

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, বৃষ্টির পরিস্থিতি দেখে তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশন কাজ করছে বলেও জানান তিনি।