ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩-আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির নির্বাহী কমিটির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্পষ্ট বার্তা আছে প্রাকৃতিক জলাধার ও পুকুর ভরাট করা যাবেনা। এই ধরনের প্রাকৃতিক জলাধার ভরাট করে আবাসন প্রকল্প নির্মান, এটা পরিবেশ আইনেও অনুমোদিত নয়।
শনিবার (১৮ জুলাই) ১১টার দিকে শহরের পুনিয়াউটের বাসভবনে গিয়ে সদর ও বিজয়নগর উপজেলার মধ্যে সরাসরি সংযোগ সড়ক সীমনা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের পাশে পেলুনপুর, রাজাবাড়ি, দক্ষিণ রাজাবাড়ি, দত্তখোলা এলাকায় সড়কের পাশে বসতবাড়ি, কৃষিজমি, জলাধার ভরাট করে আবাসন প্রকল্প না করার জন্য স্থানীয় এলাকাবাসীর দেয়া স্বারকলিপি গ্রহণকালে তিনি একথা বলেন।
স্মারকলিপিতে সদর ও বিজয়নগর উপজেলার পেলুনপুর, রাজাবাড়ি, দক্ষিণ রাজাবাড়ি, নাজিরাবাড়ি, দত্তখোলা, শিমরাইল কান্দি, কাউতলী, ভাদুঘর ও কালাইশ্রীপাড়ার তিনশতাধিক ভূমির মালিক স্বাক্ষর করেন।
এ সময় প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এমপি আরও বলেন, আমাদের শহরের তিতাস নদীর পূর্বপাশে যে জায়গা আছে এটা প্রাকৃতিক জলাধার। এই জায়গাতে আমরা কোন অবস্থাতেই আবাসন প্রকল্প হতে দিবনা। তিনি বলেন, আমাদের দেশে এমনিতেই পানি নাই। বর্ষাকালে এখানে পানি আসে। পরবর্তীতে হয়তো পানি চলে যায়। কিন্তু যতটুকুই পানি থাকে এটা কিন্তু আমাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে।
তিনি বলেন, পরিবেশ আইনেও প্রাকৃতিক জলাধার ও পুকুর ভরাট নিষিদ্ধ। তার পরেও কিছু ভূমি দস্যু ও কিছু দুষ্কৃতিকারী নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য জলাধার ভরাট করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। আপনারা নিশ্চিত থাকেন আমি সংসদ সদস্য থাকাকালে জলাধার ভরাট করে সেখানে আবাসন প্রকল্প করতে দিবোনা। ভূমিদস্যুদের প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হতে দিবোনা। আমি এমপি থাকাকালে ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম করতে দিবোনা।
এসময় জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাসহ জমির মালিকদের পক্ষে মো. বশির আহমেদ, আনোয়ার হোসেন, ইউসুফ মিয়া, রমজান মিয়া, আনিসুর রহমান, হাজী মনু মিয়া মেম্বার উপস্থিত ছিলেন।
স্বারকলিপিতে বলা হয়, উপশহরের নামে উল্লেখিত এলাকার ১ হাজার ২০০ একর ফসলি জমি, জলাভূমি ভরাট হলে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে ও জীব বৈচিত্র হুমকির মুখে পড়বে। বর্ষার উজানের পানি নামতে না পেরে শহরর ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। এছাড়া কথিত উপ-শহরের চাকচিক্যময় প্লট ও ফ্ল্যাটের আকর্ষনে মানুষ ওই এলাকায় হুমড়ি খেয়ে পড়লে সুযোগ-সন্ধ্যানীরা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ পাবে। এতে সামগ্রীক নেতিবাচক প্রভাব এসে পড়বে জনবান্ধব বিএনপি সরকারের কাঁধে। তাই জনস্বার্থে ও বর্তমান সরকারের ইমেজের কথা মাথায় রেখে আত্মঘাতী উপ-শহর প্রকল্প থেকে সরে আসার দাবি জানানো হয়।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গর্ণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জহির রায়হান বলেন, আমরা কোন জমি অধিগ্রহণ করিনা। এটা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বলতে পারবে।
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, ওই এলাকার ভূমি অধিগ্রহনের ব্যাপারর আমরা কোন নির্দেশনা পাাইনি।