ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে ব্রীজ

লোহাগাড়ায় ইজারা ছাড়াই অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উপজেলার চারটি বালু মহাল ইজারা দেওয়া হলেও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কায় অন্য কোনো বালু মহাল ইজারা দেওয়া হয়নি। কিন্তু উপজেলার আমিরাবাদ, পুটিবিলা, গৌড়স্থান, ফারাঙ্গা, পানত্রিশা, আধুনগর, জঙ্গলপদুয়াসহ বিভিন্ন এলাকার অর্ধশতাধিক স্পট থেকে ইজারা ছাড়াই শ্যালো মেশিন দিয়ে দিনরাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের হাসিনাভিটা এলাকায় সরই খাল ও ধুইল্লা খাল, চুনতি ইউনিয়নের ফারাঙ্গা ও পানত্রিশা এলাকায় ডলু নদী, আমিরাবাদে টংকাবতী নদীসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে দীর্ঘদিন ধরে ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। হাসনাভিটার সরই খাল ব্রীজের আশপাশে ১০-১২টি শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

লোহাগাড়া-লামা সড়কে চুনতি এমচরহাট এলাকায় ডলু ব্রীজের গোড়া থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে ব্রীজের মাঝখানের স্তম্ভের নিচের মাটি সরে গিয়ে ৩০ ফুট পাইলিংয়ের ২০ ফুট দৃশ্যমান হয়ে গেছে। পুটিবিলা হাসনাভিটার পাশে সরই খালের ব্রীজের ২০ ফুট দূরত্বে শ্যালো মেশিন বসিয়েও দিনরাত তোলা হচ্ছে বালু। ফলে ব্রীজটির ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও থমথমিয়া খাল, চরম্বার জামছড়িখাল, সুখছড়ির খাল, টংকাবতীনদী থেকে ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, বালু উত্তোলনে জড়িত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে সাহস পান না। পুটিবিলা ইউনিয়নের হাসভিটা এলাকায় জনবসতি ও ব্রীজের খুব কাছ থেকে সরই খাল ও ধুইল্লা খাল থেকে কমপক্ষে ১০-১২টি শ্যালো মেশিন বসিয়ে প্রতিদিন বালু উত্তোলন করতে দেখা যায়। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পুটিবিলা বাজার, মসজিদ, ডলু ব্রীজ ও হাসনাভিটা ব্রীজ হুমকির মুখে। যেকোনও সময় ব্রীজ ভেঙে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ জানান, ইজারা ছাড়া ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।