নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে অভিযোগের তদন্তে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় নারীসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মওদুদ স্কুল রোড এলাকার হাবা সফিদের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর আহামেদ, কোম্পানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ মহিনউদ্দিন, পুলিশ কনস্টেবল মো. ইছাক, মো. ইউছুফ ও শাহাদাত হোসেন।
স্থানীয়রা জানায়, দারুল ইহছান মাদ্রাসার চেয়ারম্যান মো. নূরুল আবছার একই এলাকার মানিক মিয়াসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৯-১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মঙ্গলবার দুপুরে ১টার দিকে অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর আহামেদ, এসআই আরিফ মহিউদ্দিনসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।
তদন্ত শেষে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার সময় অভিযোগকারী পক্ষ ফোন করে জানায়, বিবাদীরা নির্মাণাধীন ভবনের সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করছেন। পরে পুলিশ সদস্যরা পুনরায় সেখানে পৌঁছে ভাঙচুরের কারণ জানতে চাইলে বিবাদীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে পুলিশ সদস্যকে জখম করা হয়।
পরে হামলায় জড়িত সন্দেহে ছেমনা খাতুন, বিয়াধুনি, মনোয়ারা, আয়েশা, অজি উল্লা, আবু সুফিয়ান ও বোবা জাবেরকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সরকারি হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, মাদ্রাসার নির্মাণাধীন ভবনের জায়গাটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। বিবাদী পক্ষ জায়গাটিতে মৌরসী স্বত্ব দাবি করে নোয়াখালীর দায়রা জজ আদালতে মামলা করেছে। অপরদিকে, অভিযোগকারী পক্ষ জায়গাটি ক্রয়সূত্রে মালিক বলে দাবি করছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মঞ্জুর আহামেদ জানান, তদন্তে গিয়ে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাৎক্ষণিক নারীসহ ৭জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার পর দারুল ইহছান মাদ্রাসার চেয়ারম্যান মো. নূরুল আবছার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।