বাবুনগরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ঘিরে বিভ্রান্তি, যা জানা গেলো

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ৯ আগস্ট বাবুনগর মাদরাসায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হেফাজত আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত আগ্রহেই সাক্ষাৎটি পূর্বনির্ধারিত সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।

তবে সাক্ষাতে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে ৯ দফা দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে দেওয়া হয়।একই সঙ্গে ফটিকছড়ির দীর্ঘদিনের কয়েকটি জনদাবিও বাবুনগরীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়।

বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র জানায়, ফটিকছড়িবাসীর পক্ষ থেকে এলাকার দাবিগুলো আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ফাউন্ডেশনের নামে হেফাজতে ইসলামের আমিরের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুরুতে এ বিষয়ে আমির কিছুটা দ্বিধায় থাকলেও পরে দাবিগুলো সংবলিত ফাইলে স্বাক্ষর করে তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।

সূত্র গুলো জানায় ফটিকছড়ি তথা উত্তর চট্টগ্রামের মানুষের জন্য ২৫০ শয্যার একটি আধুনিক সরকারি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার করা।ফটিকছড়িতে ১৩২/৩৩ কেভি বিদ্যুৎ গ্রিড সাবস্টেশন স্থাপন এবং চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা ও সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

পাশাপাশি সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস ফটিকছড়িবাসীর ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করে তা স্থানীয় উন্নয়ন ও শিল্পায়নে কাজে লাগানোর দাবিও জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আরো জানান বৈঠককে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের বক্তব্য ছড়ালেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি বিষয়টি নিয়ে অসত্য,অতিরঞ্জিত ও অনুমাননির্ভর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর দাবি গুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ফটিকছড়িতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া সম্ভব হলে চা শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সম্ভাব্য শিল্পায়নে নতুন গতি আসতে পারে।

স্থানীয়রা জানান ফটিকছড়িতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া সম্ভব হলে এবং জ্বালানী সুবিধা সহজলভ্য করা গেলে নতুন নতুন  শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পরিবেশ তৈরি হবে এবং স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।