নোয়াখালীর সুবর্ণচরে ধানক্ষেতের পাশের রাস্তা থেকে মো. নাঈম (১৪) নামের এক মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য বাগ্যা গ্রামের এবায়েদ উল্যার বাড়ির পাশে ধানক্ষেতসংলগ্ন রাস্তা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত নাঈম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ইব্রাহীম খলিলের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে সুবর্ণচরে নানার বাড়িতে থেকে চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করত সে।
নিহতের নানা এবায়েদ উল্যাহ জানান, শনিবার নাঈম মাদ্রাসা থেকে নানার বাড়িতে চলে আসে। পরে নাঈমের বাবা ফোন করে তার অবস্থানের কথা জানান। এরপর নাঈমের নানী আমেনা খাতুন তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। সোমবার রাতে খাবার খেয়ে নাঈম ঘুমিয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, ভোরে ফজরের নামাজের সময় ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান ঘরের দরজা খোলা, কিন্তু নাঈম শয়নকক্ষে নেই। সকাল ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে সার আনতে যাওয়ার সময় ধানক্ষেতের পাশের রাস্তায় নাঈমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
এবায়েদ উল্যাহ আরও অভিযোগ করেন, ২০ থেকে ২৫ দিন আগে তাঁর মেয়ের নতুন করে বিয়ে হয়। এরপর নাঈমের বাবা ইব্রাহীম খলিল তাঁর মেয়ে সুমি আক্তারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের মা তাঁর বাবাকে সন্দেহ করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সকালে নাঈমের মৃত্যুর খবর জানাতে ইব্রাহীম খলিলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে তিনি নিজে ফোন করে ছেলের মৃত্যুর খবর জানান। এরপর দুপুর ১টা পর্যন্ত নাঈমের বাবা মরদেহ দেখতে আসেননি বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে নাঈমের বাবা ইব্রাহীম খলিলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহতের থুতনির নিচে চিলার মতো একটি দাগ দেখা গেছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। নিহতের বাবার সঙ্গে পুলিশের কথা হয়েছে। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম অথবা ফেনীতে আছেন এবং নোয়াখালীতে আসছেন।