ফটিকছড়িতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ২৬০ হেক্টর বেশি আমন আবাদ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চলতি মৌসুমে আমন ধানের আবাদ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ২৬০ হেক্টর বেশি জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। এতে ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা। তবে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢল নিয়ে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত শঙ্কাও রয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফটিকছড়িতে ২২ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেখানে আবাদ হয়েছে ২৩ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত ১ হাজার ২৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে।

কৃষি অফিসের হিসাবে, এবার উপজেলায় প্রায় ২৯ হাজার ৫৬৯ জন কৃষক আমন আবাদ করেছেন। গত বছরের তুলনায় আবাদ বাড়ায় এ মৌসুমে কৃষকদের মধ্যে আমন চাষে আগ্রহ বেড়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া আমন চাষের অনুকূলে রয়েছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে গত বছরের তুলনায় এবার ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে আবাদ বাড়লেও ধান ঘরে তোলা নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হঠাৎ বন্যা, পাহাড়ি ঢল এবং খাল-নালা সময়মতো সংস্কার না হওয়া আমন চাষে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

বিশেষ করে পাকা ধান কাটার সময় পাহাড়ি ঢল বা আকস্মিক বন্যা দেখা দিলে নিচু এলাকার জমিতে থাকা ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে ভালো ফলনের প্রত্যাশার পাশাপাশি শেষ মুহূর্তের প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে চিন্তায় আছেন কৃষকেরা।

ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা জানান, ভালো ফলনের আশায় তারা নিয়মিত জমির পরিচর্যা করছেন। তবে ধান উৎপাদনে সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি, জমি প্রস্তুত ও সেচসহ প্রায় সব খাতেই খরচ বেড়েছে। এর বিপরীতে স্থানীয় বাজারে ধানের দাম তুলনামূলক কম থাকায় উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্যমূল্য না পেলে লাভ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কাঞ্চনপুর এলাকার কৃষক লোকমান চৌধুরী বলেন, ধান চাষের প্রায় সব ক্ষেত্রেই খরচ বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় ধানের দাম বাড়েনি। এতে কৃষকেরা চিন্তায় আছেন।

খিরাম, ধর্মপুর ও সমিতির হাট এলাকার কয়েকজন কৃষকও একই ধরনের কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, কৃষকদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্যও নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি খাল-নালা সংস্কার এবং পাহাড়ি ঢল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, আমন মৌসুমে কৃষকদের মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা জমি পরিদর্শন করছেন। রোগবালাই শনাক্তকরণ, সার প্রয়োগ ও ফসলের পরিচর্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমনের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।

এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বিনামূল্যে উফশী রোপা আমনের বীজ ও চারা দেওয়ার জন্য পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।