হাছিনাকে সরাতে কর্মবিরতির ডাক

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার বেড়াখলা আবদুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হাছিনা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেছেন, শৃঙ্খলা ফেরানোর মিটিংয়ের কথা বলে তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, হাছিনা ইসলামকে অপসারণের জন্য রোববার (৪ অক্টোবর) কর্মবিরতি ডাকা হচ্ছে—এ কথা জানিয়ে তাদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শৃঙ্খলা ফেরানোর মিটিংয়ের কথা বলে তাদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। তারা বলেন, আদালতের নির্দেশের পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার অপসারণ চাওয়ার প্রশ্ন আসে না। এ ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশে পদ ফিরে পাওয়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হাসিনা ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পরদিন (৩০ সেপ্টেম্বর) আমি বিদ্যালয়ে জয়েন করেছি। বিদ্যালয়ে এখন থেকে নিয়মিত ক্লাস হবে। সুজন মিথ্যা বলে শিক্ষকদের থেকে স্বাক্ষর নিয়ে কর্মবিরতির কথা বলছেন। এআই দিয়ে মিথ্যা নিউজ করে ফটোকার্ড বানিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তিনি অনেক শিক্ষককে পরোক্ষ হুমকি দিচ্ছেন। আদালতের নির্দেশ এখনো তিনি মানেননি। বিদ্যালয়ের চাবি ও পাসওয়ার্ড জমা দেননি।

তিনি আরো বলেন, রোববার (৪ অক্টোবর) যথারীতি বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম চলবে। আমি সব শিক্ষককে বলে দিয়েছি বিদ্যালয়ে আসতে। অভিভাবকগণকে অনুরোধ করব মিথ্যা প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হতে।

অভিযোগ অস্বীকার করে বহিষ্কৃত আমিনুল ইসলাম সুজন বলেন, বিদ্যালয় শিক্ষকরা শৃঙ্খলা ফেরাতে কর্মবিরতি করছে। আমার এখানে কোনো ইন্ধন নেই। আমি বিদ্যালয়ে যাই না।

এ বিষয়ে জানতে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলামকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভি করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত ৩১ মার্চ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার বেড়াখলা আবদুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হাছিনা ইসলামকে মারধর ও লাথি মেরে চেয়ার থেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই মব করে সরিয়ে দেওয়া কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার বেড়াখলা বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হাছিনা ইসলামকে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিদ্যালয়টির বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলামকে স্কুলের সীমানায় প্রবেশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিন বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলামকে তলব করেন হাইকোর্ট। তার বিরুদ্ধে মব করার বিষয়ে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়। আদালতে দেওয়া তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে জেলে পাঠানোর কথা জানান হাইকোর্ট। তবে পরক্ষণে তিনি আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে তাকে স্কুলের সীমানায় প্রবেশ না করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।