সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, দুর্ভোগে ৩০ হাজার মানুষ

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জাতিগোষ্ঠীর অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। যান চলাচল বন্ধ থাকায় হাট-বাজারে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। জুমচাষিরা উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারছেন না। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে এলাকায় খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার জোড়াব্রীজ থেকে সাজেক ভ্যালি ও আশপাশের অভ্যন্তরীণ সড়কে এ অবরোধ চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সড়কগুলোতে কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। অবরোধকারীরা বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করছেন। হাটের দিনেও স্থানীয় বাজারগুলোতে ছিল সুনসান নীরবতা। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, সড়ক অবরোধ চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। অবরোধের কারণে সাজেক ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন যৌথ বিবৃতিতে অবরোধের ঘোষণা দেয়। এর আগে গত ১১ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়েছিল। সে সময় সাজেকে কয়েক হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক আটকা পড়েন। পরে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় পর্যটকদের ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে সাজেকের ওজোবাজার এলাকায় অবরোধকারীরা নিরাপত্তা বহর আটকে দেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা আলোচনার পর বহরটি ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ৪৮ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিল করা হয়। এরপর বুধবার দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়।

পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এতে পর্যটননির্ভর স্থানীয় ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস ধরে সাজেক ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক সংগঠন—ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু গ্রুপের মধ্যে সংঘাত চলছে।

সাজেকের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক। তিনি বলেন, সাজেকের অস্থিরতা ও জননিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ করেছে। অস্ত্রের ঝনঝনানির মাধ্যমে যারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী অভিযান পরিচালনা করবে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে মাচালং এলাকার মন্দিরছড়া পাড়ায় গুলিবিদ্ধ হয় মাচালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সঞ্জিতা ত্রিপুরা (৯)। সে অলেন্দ্র ত্রিপুরার মেয়ে। একের পর এক সংঘাত ও গোলাগুলির ঘটনায় সাজেকের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে সংগঠন দুটির মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়ার দাবিতে বুধবার খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যরা। এ সময় তাঁরা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন।