রাঙামাটি জেলা পরিষদে হত্যা মামলার আসামি!

রাঙামাটিতে হত্যা মামলার চার্জশিটভূক্ত আসামিকে জেলা পরিষদে সদস্য করায় সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। জনমত এড়িয়ে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।

গত ৭ নভেম্বর রাঙামাটিতে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন জেলা পরিষদ। ১৫ সদস্যের এই পরিষদের জেলার জনগুরুত্বপূর্ণ কাউখালী, বরকল, জুরাছড়ি ও রাজস্থলী উপজেলাসহ চারটি উপজেলা থেকে কোন প্রার্থীকেই রাখা হয়নি। প্রথমে এটি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এবার অভিযোগ উঠেছে হত্যা মামলার এক পলাতক আসামি প্রণতি রঞ্জন খীসাকে জেলা পরিষদের সদস্য পদে নিয়োগ দেওয়ায়। তিনি নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটের ননি পুতুল খীসার ছেলে ।

প্রণতি রঞ্জন খীসা বুড়িঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি হত্যা মামলার চার্জশীটভুক্ত পলাতক আসামি। তার বিরুদ্ধে নানিয়ারচর থানায় দায়ের হওয়া ফৌজদারী মামলা জিআর নং ৩১৯/২০১৮ রাঙামাটির আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়াও হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় দীর্ঘদিন তিনি পলাতক ছিলেন বলে জানা গেছে।

মামলার সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর নানিয়ারচর বাজার সংলগ্ন বিহার পাড়া এলাকায় শান্ত ওরফে শান্তি চাকমা নামে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দলের এক সদস্য দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনায় ২০ অক্টোবর নিহতের স্ত্রী রিপনা চাকমা বাদী হয়ে নানিয়ারচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় ২৯ জন আসামির তালিকায় প্রণতি রঞ্জন খীসার নাম রয়েছে। পরে পেনাল কোডের ৩০২/৩৪ ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রতীয়মান হওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে রাঙামাটির আদালতে নানিয়ারচর থানার অভিযোগ পত্র নং-০৬/২০২০, তারিখ-২৫/০৬/২০২০,ধারা-৩০২/৩৪ দাখিল করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাঙামাটির বিশিষ্ট আইনজীবী রাজীব চাকমা বলেন, জেলা পরিষদে সদ্য নিয়োগ পাওয়া সদস্য প্রণতি রঞ্জন খীসার নাম ওই মামলার আসামির তালিকায় রয়েছে। মামলার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

এ ব্যাপারে ফোনে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে প্রণতি রঞ্জন খীসা বলেন, মামলাটির আসামির তালিকায় তার নাম ছিল। কিন্তু এতে তার বিরুদ্ধে অসত্য অভিযোগ করায় পরে বাদীর সঙ্গে তার আপোষ হয়ে ছিল।

এই মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজির আলম জানান, নানিয়ারচর থানায় ২৯ জন আসামির তালিকায় প্রণতি রঞ্জন খীসার নাম রয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে। সে ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি। শুনেছি তিনি সদ্য জেলা পরিষদ সদস্য হিসেবে যোগদান করেছেন। আমি ভালো করে কাগজপত্র দেখে বিহীত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।