রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি থেকে এ পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের সবার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা নদী থেকে বাসটি ওপরে তুলে আনে। বাসটি উদ্ধারের পরপরই এর ভেতর থেকে ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার ভোরে নদী থেকে আরও ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এর আগে, দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা নদী থেকে ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছিলেন।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, নিহত ২৩ জনেরই পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের মরদেহ ইতিমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি মরদেহগুলো হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে মরদেহগুলো গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের ওই বাসটিতে প্রায় ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন। ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ, সেনাবাহিনী ও জেলা পুলিশ।
উদ্ধার অভিযান চলাকালীন ফেরিঘাট এলাকায় নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।