মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ভুট্টা ক্ষেত থেকে আতিকা (৭) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় লঙ্কাকাণ্ড ঘটে গেছে। শিশুটিকে হত্যার অভিযোগে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালের দিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে সদর থানা পুলিশ।
নিহত আতিকা ওই গ্রামের দুদুল মিয়ার মেয়ে এবং স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে প্রতিবেশী এক বাড়িতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে গিয়ে নিখোঁজ হয় আতিকা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর আতিকার এক ছোট ভাইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেশী নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে স্বজনরা। একপর্যায়ে নাঈম তাদের নিয়ে পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতে যায় এবং সেখান থেকে আতিকার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের পর নাঈম কৌশলে পালিয়ে গেলেও উত্তেজিত জনতা নাঈমের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় নাঈমের বাবা অটোচালক পান্নু মিয়া (৪৫) এবং কাকা ফজলু মিয়াকে (২৮) ধরে গণপিটুনি দেয় এলাকাবাসী। গণধোলাইয়ে ঘটনাস্থলেই দুই ভাই নিহত হন। এছাড়া পান্নু মিয়ার ছেলে নাজমুল (২০) গণপিটুনিতে গুরুতর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি গণপিটুনিতে নিহত দুই ব্যক্তির মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘শিশুর মৃত্যু এবং গণপিটুনি- এই দুটি পৃথক ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের পর পুরো গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।