মানিকগঞ্জ সদর ও দৌলতপুর উপজেলায় পৃথক দুটি স্থানে তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। শনিবার (৩০ মে) রাতে মানিকগঞ্জ সদর ও দৌলতপুর উপজেলার এলাকায় এসব ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহত আমেনা বেগম (২৮) জেলার দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের আব্দুস সালামের স্ত্রী এবং দেড় বছরে শিশু আসাওয়াদ। অপর দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর এলাকার মুনসের আলীর ছেলে সজীব হোসেন।
জানা যায়, জেলার দৌলতপুর উপজেলার বাচামারা ইউনিয়নের ফকিরপাড়া এলাকায় দুই ভাই আব্দুস সালাম ও ইউসুফ আলীর মধ্যে দীর্ঘ দিন যাবৎ পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। এই দ্বন্দ্ব দিন দিন তীব্র হতে শুরু করে। সম্প্রতি ১৫ দিন আগেও দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা বাঁধে সম্পত্তি নিয়ে। শনিবার (৩০ মে) সেই ধারাবাহিকতায় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ছোট ভাই ইউসুফ আলী তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভাই, ভাবী ও ভাতিজাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক ভাবে জখম করে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্য চিকিৎসক ভাবী আমেনা বেগম ও ভাতিজা আওলাদকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুত্ব আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন আব্দুস সালাম। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ইউসুফ আলী পলাতক আছে।
জানা যায়, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর এলাকার বাসিন্দা সজীব হোসেন। রাতে বাড়িতে থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা সজীবের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। তবে কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং এর পেছনের কারণ কী, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুলিশ বলছে সজীবের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও মাদক-সংক্রান্ত একাধিক মামলা ছিল।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই এবং মরদেহটি উদ্ধার করেছি। জড়িতদের শনাক্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করছি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেরে এই ঘটনাটি ঘটেছে। মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে, ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় জড়িতকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।ৃ