শ্রীপুরে হস্তান্তরের সাত মাসেই সুতি নদীর বাঁধে ধস

গাজীপুরের শ্রীপুরে সুতি নদীর ডান পাড় দিয়ে যাওয়া রাজাবাড়ী-প্রহলাদপুর সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ ধসে পড়েছে। দুর্বল তদারকি এবং যথাযথ ডাম্পিং না করায় ঠিকাদারের হস্তান্তরের সাত মাসের মধ্যেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে নদীর তীরে সড়কের পাশে বসবাসরত শতাধিক পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (২৮ জুন) দুপুর ১২ টায় ভাঙন রোধে সকাল থেকে মেরামতের কাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সড়কের পাশে নদী পাড়ের ব্লকগুলো ছুটে গেছে। যে অংশটুকু নষ্ট হয়েছে ওই অংশটুকু ব্লক সরিয়ে সোল্ডার পিটিয়ে কম্পেকশন করে আবার নতুন করে আগের মতো বসিয়ে দিবে। কার্পেটিংয়ের যে অংশটুকু নষ্ট হয়েছে কম্পেকশন করে নতুন করে কার্পেটিং করে দিবে। আশা করি ভাঙ্গার কোন সম্ভাবনা নেই।

উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলা শহর গাজীপুরে দ্রুত ও অল্প সময়ে যাতায়াতের জন্য ২০২১ সালে রাজাবাড়ী থেকে প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার পাকা সড়ক প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম ট্রেডার্স। ২০২৪ সালে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের দিকে প্রায় সাত মাসে আগে কাজ শেষ করে বুঝিয়ে দেওয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজাবাড়ী থেকে দমদমা পর্যন্ত সুতি নদীর ডান পার ঘেঁষে যাওয়া সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার পাকা সড়কের চিনাশুকানিয়া গ্রামের অংশ ইতিমধ্যে ধসে গেছে। নদী পাড়ে বসানো ব্লক ইতিমধ্যে ভেঙে নদীতে পড়ে যাচ্ছে। ফাটল দেখা দিয়েছে কয়েকটি পয়েন্টে। কিছু ব্লক সড়কের ওপর তুলে রাখা হয়েছে। দেবে যাওয়া সড়েরক অংশে বাঁক থাকায় এবং সড়ক সরু হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

এলাকাবসী অভিযোগ করেন, কাজের তদারকি ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় এবং যথাযথ ডাম্পিং না করে সুতি নদীর ডান পাড়ে ব্লক বসানোর কারণে সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ বিশেষ ধসে পড়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে শক্তভাবে মেরামত করা না হলে সড়করটির এই অংশ ধসে নদীতে বিলীন হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভালো কাজ হলে এতো অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটির নদী পাড়ের অংশ দেবে যাওয়ার কথা না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের মালামাল দিয়ে কাজ করার কারণে সড়কের এ অবস্থা হয়েছে। তদন্ত করে দোষীদের বিচার দাবি করেন তারা।

দমদমা গ্রামের বাসিন্দা রফিক মিয়া (৪৫) বলেন, সড়ক ঘেঁষে নদীর ডান তীরে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হলে তাঁরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার সাত মাসের মাথায় বাঁধ ধসে পড়েছে। নিম্নমানের কাজ হয়েছে বলেই এ ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত সড়ক সংরক্ষণ বাঁধ মেরামত না করা হলে আস্তে আস্তে সড়কের পাশের ঘরবাড়ী বিলীন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রকিব মিয়া বলেন, কয়েক মাস হলো সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। কয়েকদিন আগের বৃষ্টি পড়ে নদীর ডান পাশে সড়কটি দেবে গেছে। সড়ক নির্মানের আগে নদীর ডান তীর বালু দিয়ে দ্রুত ভরাট করার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বালু যথাযথভাবে ডাম্পিং না করার কারণে পাকা সড়ক দেবে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। কাজের শুরুতে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলেও ব্লকগুলো ভিটা বালু দিয়ে জোড়া লাগানো হয়েছে। যার ফলেসব ব্লকের জোড়া খুলে যাচ্ছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুস সালাম বলেন, সুতি নদীর বাঁধে সড়কের কিছু অংশ দেবে গেছে। একবার, দুইবার তিনবার ভাঙবে। আমার এখনো দেড় কোটি টাকা রয়ে গেছে। ভাঙব, ঠিক করবো। বিল উত্তোলন করলেও জামানত দুই বছর পর্যন্ত জমা থাকে।

শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, সড়কের পাশে সুতি নদীর বাঁধের অংশ বিশেষ ধসে পড়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হয়েছে। ধসে যাওয়া অংশের কাজ পুনরায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আজ (রবিবার) থেকে তারা কাজ শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল উত্তোলন করলেও তাদের জামানতের ১০ ভাগ টাকা রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের খরচে মেরামত করছে। কাজের তদারকি সঠিকভাবে হয়নি, এলাকাবাসীর এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন ঢালাও অভিযোগ সঠিক নয়।