অস্বাভাবিক হারে ডিমের দাম কমে যাওয়ায় মহাসড়কে ডিম ভেঙে প্রতিবাদ জানিয়েছেন পোলট্রি খামারিরা। এসময় তারা বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেট ভাঙারও দাবি তোলেন।
শনিবার (৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপজেলার জৈনাবাজারে এসব কর্মসূচী পালন করেন।
এসময় তারা মুরগির বাচ্চা, খাবার ও ওষুধের দাম কমানোর দাবিতে তাঁরা মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন। শিমুলতলা পোলট্রি খামারি অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে কর্মসূচিতে ৫০ জন খামারি অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে খামারিরা অভিযোগ করেন, পোল্ট্রি খাদ্য ও ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতিটি ডিম উৎপাদন খরচের চেয়ে আড়াই টাকা কমে বিক্রি করতে হচ্ছে। সিন্ডিকেটের কারণে খুচরা বাজারে ভোক্তাদের বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে। এতে একদিকে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং অপরদিকে খামারিদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
খামারিদের দাবি, লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচও উঠছে না। ফলে হাজার হাজার প্রান্তিক খামারি দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। ডিমের বাজারের সিন্ডিকেট ভেঙে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপসহ দৃষ্টি দেওয়ার আবেদন জানান। সিন্ডিকেটের হাতে পানির দরে ডিম তুলে দেওয়ার চেয়ে রাস্তায় ভেঙে প্রতিবাদ জানানোই ভালো। একপর্যায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে মহাসড়কের ওপর শত শত ডিম আছড়ে ভেঙে তারা প্রতিবাদ জানান।
উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের লোহাই বাজার এলাকার খামারি রাসেল প্রধান বলেন, খামারে ৩/৪জন শ্রমিক দিন-রাত পরিশ্রম করে ডিম উৎপাদন করছি। ওইসব ডিমের লাভ নিচ্ছে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকার যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে দেশের পোল্ট্রি শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়বে। তবে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য থাকবে পোল্ট্রি খামারিরা।
শ্রীপুর উপজেলা পোলট্রি খামারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মতিন বলেন, প্রতিনিয়ত মুরগির বাচ্চা, খাবার ও ওষুধের দাম বৃদ্ধি পেলেও ডিমের দাম না বাড়ায় তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একটি ডিম উৎপাদনে খামারিদের খরচ চচ্ছে ৯ টাকা ৮০ পয়সা। পাইকারদের কাছে প্রতি পিছ ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে সাড়ে ৭ টাকা। এতে লোকসানের গুনছেন হচ্ছেন খামারিরা। বিগত প্রায় ৬ মাস যাবত খামারিরা লোকসান দিচ্ছেন।
শ্রীপুর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মো: আশরাফ হোসেন বলেন, শ্রীপুর উপজেলায় লেয়ার মুরগির খামারি রয়েছে সাড়ে তিন’শ। এসব খামারে প্রায় এক হাজারের মতো শ্রমিক কাজ করছেন। শতাধিক মুরগির খাবার ও ওষুধের ডিলার আছেন। প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে ১৩ লাখ ডিম।